প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘করের হার বাড়িয়ে নয়, বরং উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা উচিত। সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলায়তনে রিসার্চ এন্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, আমরা একটি নতুন মডেলের দিকে যাচ্ছি। সেই মডেল হচ্ছে- বিনিয়োগ থেকে উৎপাদন। উৎপাদন থেকে কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থান থেকে করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধি। অর্থাৎ, পুরনো মডেল থেকে এখানে একটি বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। আগে বিনিয়োগ ঋণাত্মক হয়ে পড়েছিল এবং বিনিয়োগ প্রথমদিকে স্থবির হয়ে থাকতো।
তিনি আরও বলেন, আমরা উৎপাদনমুখী শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছি, যাতে করে নিউ নরমাল পরিস্থিতি আসার কারণে যে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাচ্ছে, সেটিকে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। কারণ কোভিড-১৯ এর বিষয়ে আপনি জানতেন না। মধ্যপ্রাচ্যের যে সংকট, সেটার কথাও আপনারা জানতেন না। বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইন ডিস্রাপশন ঘটতে পারে, যেকারণে আমরা দেশোপযোগী উপায়ে এগিয়ে যাচ্ছি। ফলস্বরূপ, আমাদের জনগণ আমাদেরকে সমর্থন করেছে এবং আমাদের প্রত্যেকটি কৌশল দেশোপযোগী।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তার বিষয় হল যে, আমরা যে সংস্কার করেছি তার মধ্যে পাঁচটি অংশে বিভক্ত করা যায়। প্রথম অংশ হচ্ছে- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে হবে। এর ফলে আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য এবং আণবিক খাতে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে- জ্বালানিকে এফোরডেবল করে তোলা। কিভাবে মানুষদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে জ্বালানি রাখা যায়, এটি দ্বিতীয় চিন্তা। এ নিয়ে অনেকগুলো কাজ হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আপনারা সেগুলো দেখতে পারবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, তৃতীয় বিষয় হচ্ছে, প্রত্যেকটি কারখানার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেমন, কোন কারখানায় গ্যাস সরবরাহ না হলে সেখানে উৎপাদন অসম্ভব। কিন্তু অতীতে আমরা লক্ষ্য করেছি, গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোনো অনুসন্ধান হয়নি। গ্যাস আবিষ্কারে এবং উত্তোলনে দেশের অভ্যন্তরে এবং সমুদ্রে ব্যবস্থা করার জন্য আমরা কাজ করছি। চতুর্থ বিষয়, যদি আমরা সৌর বিদ্যুতের দিকে যেতে চাই বা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দিকে এগোতে চাই, তাহলে সেই উৎপাদন এখানেই করতে হবে। এটি নিশ্চিত করার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি এই বাজেটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এর চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক।
প্যানেল আলোচনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কারস সলিডারিটির সভাপতি তাসলিমা আখতার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন