প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত অন্যতম বড় তেল শোধনাগার ইলস্কিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ১ জুন রাত থেকে ২ জুন ভোরের মধ্যে চালানো এই হামলাটি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক আঘাতের সর্বশেষ ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ দ্বারা জানানো হয়েছে যে, ক্রাসনোদার অঞ্চলে অবস্থিত ইলস্কি শোধনাগারকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা ঘটেছে। হামলার পর সেখানে আগুন লেগে যায়। একই সময়ে কাছের শহর স্লাভিয়ানস্ক-না-কুবানে একটি আবাসিক ভবনের কাছে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জরুরি সেবা ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ইলস্কি শোধনাগার দক্ষিণ রাশিয়ার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বছরে প্রায় ৬৬ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে এর। এটি শুধুমাত্র বেসামরিক খাতে নয়, বরং রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই শোধনাগারে অন্তত ১৬ বার হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও একটি বড় হামলায় সেখানে আগুন লেগেছিল এবং সাময়িকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল।
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করছে যে, তারা এক রাতেই ১৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এসব ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চল যেমন বেলগোরোদ, ব্রিয়ান্স্ক, কুরস্ক, রস্তভ, স্মোলেনস্ক, ভলগোগ্রাদ এবং ক্রাসনোদারের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছিল।
ক্রমাগত এই হামলার ফলে জ্বালানি খাতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাশিয়ার দৈনিক তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কমে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৪৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে। এটি এপ্রিলের তুলনায় কম এবং বছরের শুরু থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, তেল শোধনাগারগুলোতে এমন ধরণের হামলা অব্যাহত থাকলে এটি শুধু রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহকেই প্রভাবিত করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন