০৩:৫০ পি.এম
ডট ড্যাশের যুগ পেরিয়ে, বর্তমানে প্রযুক্তির সময় চলছে, কিন্তু প্রকৃতির এক নীরব যোদ্ধা আজও টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে চলেছে। আজ ২৭ এপ্রিল, বিশ্ব ট্যাপির দিবস। এই বিশেষ দিনটি ট্যাপির সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সংরক্ষণের জন্য বৈশ্বিক উদ্যোগকে জোরদার করার উদ্দেশ্যে পালন করা হয়।

আরও পড়ুন: কাবাডি খেলোয়াড় মিথিলাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
ট্যাপির দেখতে অনেকটা শূকরের মতো, কিন্তু এর ছোট শুঁড়ের মতো নাক একে আলাদা করে চেনায়। অনেকে একে বুনো শূকর বা অ্যান্টইটারের সাথে তুলনা করেন, তবে বাস্তবে এদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হল ঘোড়া ও গণ্ডার। এই তৃণভোজী প্রাণীটির ওজন ৬০০ পাউন্ডের বেশি হয়ে থাকে এবং এটি দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম স্থল স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিত।
ট্যাপির মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও বিস্তৃত। বর্তমানে ট্যাপিরের চারটি ধরনের স্বীকৃত রয়েছে: ব্রাজিলিয়ান ট্যাপির, মালায়ান ট্যাপির, বেয়ার্ডস ট্যাপির, এবং মাউন্টেন ট্যাপির। এর মধ্যে ব্রাজিলিয়ান ও মাউন্টেন ট্যাপির ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে, পাশাপাশি মালায়ান ও বেয়ার্ডস ট্যাপির মারাত্মক বিপন্ন। বিশ্বে মালায়ান ট্যাপিরের সংখ্যা প্রায় ৩০০০টি এবং বেয়ার্ডস ট্যাপিরের সংখ্যা প্রায় ৫০০০টি।
ট্যাপিরকে অনেক সময় 'জীবন্ত জীবাশ্ম' বলা হয়, কারণ তারা দীর্ঘকাল ধরে প্রায় অপরিবর্তিত থেকে গেছে। তাদের গর্ভকাল সাধারণত ১৩ থেকে ১৪ মাস। ট্যাপিরের নাক অত্যন্ত নমনীয়, যা দিয়ে তারা সহজেই খাবার সংগ্রহ করতে সক্ষম।
অ্যামাজন অঞ্চলে ট্যাপিরকে মাংসের জন্য শিকার করা হয়, যা তাদের অস্তিত্বের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। জন্মের সময় বাচ্চা ট্যাপিরের গায়ে দাগ ও ডোরাকাটা নকশা থাকে, যা দেখতে অনেকটা তরমুজের মতো লাগে। বয়স বাড়ানোর সাথে সাথে এই দাগগুলি মিলিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের প্রতিবাদ কর্মসূচি
ট্যাপিরকে বলা হয় বনের মালী। তারা ফল খেয়ে বিভিন্ন স্থানে বীজ ছড়িয়ে দিয়ে বন পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ট্যাপির রক্ষা করা মানে সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেমকে রক্ষা করা।
বিশ্বজুড়ে নানা চিড়িয়াখানা এবং সংরক্ষণ সংস্থা এই দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মানুষকে ট্যাপির সম্পর্কে জানার, সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা করার এবং সামাজিক মাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
২০০৮ সালে ট্যাপিরপ্রেমী এবং সংরক্ষণকর্মীদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ট্যাপির দিবস পালিত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ২৭ এপ্রিল দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপিত হতে থাকে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় স্কুল ক্রিকেটের শিরোপা জিতল বীট মডেল স্কুল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন