প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর দলের সঙ্গে ৬৪ নম্বর দলের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ছিল কেপ ভার্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ নকআউটের এই ম্যাচে কাগজে-কলমে যোজন যোজন এগিয়ে। আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচ খেলে কেপ ভার্ডের মতো দলের বিপক্ষে অল্প অল্প প্রতিযোগিতার আশা দেখতে পাচ্ছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে কেপ ভার্ডে বুক চিতিয়ে খেলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।
নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে কেপ ভার্ডে দুইবার পিছিয়ে পড়লেও সমতায় ফিরেছে দুইবার। সম্প্রতি বিশ্বকাপে প্রথমবার আসা কেপ ভার্ডের অস্বাভাবিক পারফরম্যান্স বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘাম ঝরিয়েছে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ১১১ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে কেপ ভার্ডের রূপকথার অবসান ঘটে।
মায়ামিতে কেপ ভার্ডেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে নিজেদের জায়গা পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
আজ (৪ জুন) মাঠে নেমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক গড়েছেন লিওনেল মেসি। এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে তার ৩০তম ম্যাচ, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ। এটি তার ২৭তম ম্যাচের শুরুর একাদশে খেলার রেকর্ড, যা অন্য কোনো ফুটবলারের নেই।
রেকর্ডময় এই ম্যাচে ২৯ মিনিটে কেপ ভার্ডের দেয়ালও ভেঙেছেন মেসি। সে সময় তিনি লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণ করে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান। এটি বিশ্বকাপে তার মোট ২০তম গোল, যা এই বিশ্বকাপে তার ৭ম ও সর্বোচ্চ। ৬ গোল নিয়ে এমবাপ্পে তার পেছনে রয়েছে।
এদিকে, আর্জেন্টিনা মায়ামিতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ইতিবাচক ফুটবল খেলতে শুরু করেছে। তাদের খেলা আক্রমণাত্মক, তবে প্রথমার্ধে নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে কেপ ভার্ডে সমতা ফেরায়। রায়ান মেন্ডেসের ডান দিক থেকে বল ডেরয় দুয়ার্তের কাছে যায়। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের নজর এড়িয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পান দুয়ার্তে। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ তাকে ঠেকাতে দ্রুত এগিয়ে আসে, কিন্তু দুয়ার্তে দুর্দান্ত শটে বল মার্টিনেজের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে পাঠান।
৬৩ মিনিটে মেসির দারুণ শট ফিরিয়ে দেয় ভোজিনহা। ৭৩ মিনিটে মেসির ফ্রি কিকও ফিরিয়ে দেন ভোজিনহা। ম্যাচের বাকিটা আর্জেন্টিনা একাধিকবার চেষ্টা করলেও কেপ ভার্ডে রক্ষণের দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয়। খেলাটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।
অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে আবার লিড নেয় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লিসান্দ্রো এমন ভঙ্গি করেন যেন দূরের কোণে শট নেবেন। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে জোরালো বাঁকানো শটে বল নিজের দিকের ওপরের কোণে পাঠান।
এই গোলটি যখন ম্যাচ নির্ধারণী বলে মনে করা হচ্ছিল, তখন সিডনি কাবরাল আবার চমক দেখায়। বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে সিডনি কাব্রাল ডান পায়ে দুর্দান্ত একটি বাঁকানো শট নেন, যা দূরের ওপরের পোস্টে জড়ায়।
নাটকীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ পেরেকটি ঠুকেছেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। ১১১ মিনিটে কর্নার থেকে মেসির পাঠানো বল সবার ওপরে উঠে রোমেরো শক্তিশালী হেড করেন, যা জালে পৌঁছে যায়। কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে আসে আর্জেন্টিনা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন