প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আলোচিত প্রকৌশলী দম্পতি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মাদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী এবং তার স্ত্রী নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তাকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, স্থানীয় সরকার বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শাহীন উল ইসলাম চৌধুরীকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে এবং ফারজানা মুক্তাকে রংপুর সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়।
এ দম্পতির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের এক মাসের মাথায় শুরু হওয়া তদন্ত এখনও শেষ হয়নি এবং এটি অগ্রসর রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের মধ্যে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মাদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে, এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তাকে রংপুর সিটি করপোরেশনের শূন্যপদে বা সমপদে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ বেতনক্রম অনুযায়ী নতুন কর্মস্থল থেকে বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা লাভ করবেন। তাঁদের জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, অবসর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ও নতুন কর্মস্থল থেকেই পর্যবেক্ষিত হবে। আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ২৭ জুলাই থেকে তাঁদের ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
দাফতরিক নথি অনুযায়ী, মোহাম্মাদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে ঘিরে প্রশাসনিক আলোচনা দীর্ঘকাল ধরে চলছে। ২০১৭ সালে একটি অভিযোগের ঘটনা সম্পর্কে তিনি সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন এবং ৯ জানুয়ারি ২০২০ সালে এক অফিস আদেশে তিনি সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। পরে তাঁর দায়িত্বে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কাজ চলে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে প্রশাসনিক কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছিল। একই সময়ে চসিকের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাশেমকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়। তবে ওই সময় চসিকে প্রকৌশলী সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে।
চিঠিতে জানানো হয়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদ শূন্য থাকায় প্রায় ৫,৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। পরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী আবারো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ফেরেন।
চলতি বছরের ২৫ জুন চসিকের সংস্থাপন শাখার এক স্মারক থেকে জানা যায়, মোহাম্মাদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ সালের জন্য মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন আবেদনটি সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠান। কিন্তু অভিযোগ ওঠার পর তাঁর বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন নিয়েও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।
সর্বশেষ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে মেহেদী চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাইরে বদলির দাবি জানানো হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে, গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্ত কমিটিকে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন