প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাকরিতে ২৫ বছরের সময়কাল পূর্ণ করার আগে কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন সুবিধা প্রাপ্য হবেন না, বলে এক রায়ে উল্লেখ করেছেন আপিল বিভাগ। রায়ে বলা হয়েছে, আইনসভা প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক বিবেচনার ভিত্তিতে বিধান করা হয়েছে যে ২৫ বছরের চাকরির সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে একজন সরকারি কর্মচারী কোনো সুবিধার অধিকারী হবেন না।
হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে, গত ১১ মার্চ আপিল বিভাগ ওই রায় দেন বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৯ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
নথিপত্র থেকে জানা যায়, সহকারী বিচারক হিসেবে ১৯৯১ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন মাহবুব মোরশেদ। তিনি সার্ভিসের ১৯ বছর পূর্ণ করে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দেন, তখন তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ। সার্ভিসে ১৯ বছর হিসাবে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক পাওয়ার জন্য ২০১৫ সালে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি।
সুতরাং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয় যে, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর আগের চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ পেনশনের জন্য তা গণনাযোগ্য হবে না (বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০ সেকশন-৩)। পেনশনার মাহবুব মোরশেদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে পেনশনের জন্য কোনো আবেদন করেননি।
এ পরিস্থিতিতে বিধি-৩০০ এবং ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২১ সালের ১৮ মার্চ রায় দেন। এতে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চের চিঠিটি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে চাকরির মেয়াদ অনুসারে মাহবুব মোরশেদের পেনশনসহ অন্যান্য বকেয়া সুবিধা গণনা ও মঞ্জুর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে, হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ চলমান রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।
রাষ্ট্রপক্ষের করা সেই আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে গত ১১ মার্চ আপিল বিভাগ ওই রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক শুনানিতে ছিলেন। রিট আবেদনকারী আইনজীবী মো. মাহবুব মোরশেদ নিজেই শুনানি করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন