প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাঙ্গাইল প্রতিনিধির প্রতিবেদনে জানা যায়, টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং মানসিক বিকাশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৫টি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক শরীফা হক বিশ্বাস করেন, এর মাধ্যমে আগামীতে শিশুরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সব প্রাইমারি স্কুলের প্রধানদের সঙ্গে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবক সমাবেশও করা হচ্ছে। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ে কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও সোনালু গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্লে গ্রাউন্ড নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে বিভিন্ন লেখকদের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বুক কর্নার স্থাপন করা হয়েছে এবং খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে খেলা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ, কালার পেন্সিল, টিফিন বক্স, ওয়াটার বটল, স্কুল ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে উৎসাহি করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শিশুদের বিজ্ঞানমনস্ক করতে, বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞান বক্স বিতরণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তি নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য স্কুলগুলিতে আধুনিক আইটি সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। জানা যায়, শিশুদের পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলছে এবং শব্দ দূষণ, উদ্ভিদের জীবনচক্র আর খাদ্য শৃঙ্খল কর্মশালার মাধ্যমে শেখানো হচ্ছে। এ ছাড়াও, স্কুলগুলোতে বর্জ্য পৃথকীকরণের জন্য বিন দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ পথচারীদের অসচেতনতা। তাই শিক্ষার্থীদের বয়স উপযোগী করে কর্মশালার মাধ্যমে কিছু মৌলিক ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, প্রান্তিক পর্যায়ে সুষম খাদ্য নিশ্চিতে বেশ কিছু স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে এবং সুষম খাদ্য নিয়ে ব্যবহারিক ক্লাসও হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে। উদ্দেশ্য হলো শৈশব থেকেই যেন শিশুরা পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে জানে এবং জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।
শিশুদের মন থেকে দুর্যোগের আতঙ্ক দূর করে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহযোগিতায় স্কুলগুলোতে ভূকম্প ও অগ্নিদুর্ঘটনায় করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক মহড়া করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে স্কুলের পাশের সড়কগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ১৬০টি স্কুলে বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে।
চাকতা গ্রামের গোলাম রাব্বিসহ কয়েকজন অভিভাবক জানান, বর্তমান জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষার মান অনেকটা উন্নতি হচ্ছে। একদিকে শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের বাইরে বাস্তবতা শিখছে, অপর দিকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, শিশুরা প্রতিটি দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাদের পরিপূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। প্রচলিত প্রশাসনিক পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে রূপান্তর করা হচ্ছে। সমন্বিত মানবিক যাত্রায় ভবিষ্যত পৃথিবীকে নেতৃত্বদানে সক্ষম সুনাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতেই কাজ করে যাচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন