প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হামজা জহুরের অসাধারণ সেঞ্চুরির সুবাদে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ৩ উইকেটে পরাজিত করেছে পাকিস্তান। রোববার (৮ নভেম্বর) ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (মিনিস্ট্রি টার্ফ ১) মাঠে অনুষ্ঠিত এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ২০২৬-এর লো স্কোরিং ম্যাচে এই বিজয় অর্জন করে গ্রিন শার্টরা।
২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে পাকিস্তান ৪৯তম ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়লাভ করে। এক পর্যায়ে ৬৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল পাকিস্তান। তবে হামজা জহুর ও হাসনাইন আব্বাস দারের চমৎকার ব্যাটিংয়ে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে।
পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারে ইশান সুদের বলে ৪ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন জাহাঙ্গীর বিলাল। আগের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা উসমান খানও এদিন ব্যর্থ হন। মোহিত উলভার বলে আউট হওয়ার আগে ২৩ বলে ১৬ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার।
এরপর মানাল চৌহানের শিকার হয়ে ফেরেন আবদুল কাদির। তিনি ২৭ বলে ২০ রান করেন, যার মধ্যে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। ফলে ১২.৩ ওভারে ৫৫ রানেই ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
ভারতের বোলাররা এরপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে থাকে পাকিস্তানের উপর। কাব্য পারেশ প্যাটেলের বলে মাত্র ২ রান করে আউট হন অধিনায়ক ফারহান ইউসুফ। পরে চৌহান ফিরিয়ে দেন আহমেদ হুসাইনকে। তিনি ২৭ বলে ৮ রান করে বিদায় নেন। এতে ৬৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন হামজা ও হাসনাইন আব্বাস দার। তারা ষষ্ঠ উইকেটে ১০৭ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তাদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান ম্যাচে ফিরে আসে। চাপের মধ্যেও তারা দলকে ১৫০ রানের গণ্ডি পার করান।
এই জুটির মধ্যে হামজা যুব ওয়ানডেতে নিজের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন। অন্য প্রান্তে দারও অসাধারণ সহযোগিতা করেন।
৩৮তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন চৌহান। ৬৭ বলে ৩৮ রান করা হাসনাইন আব্বাস দারকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার। পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৬৮ রান।
এরপর মোহিত উলভার শিকার হয়ে ১৩ বলে ৪ রান করে ফেরেন মোহাম্মদ সাইয়াম। তবে হামজা এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নেন।
অবশেষে ১০৮ বলে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ১০০ রান করে দলকে জয় এনে দেন তিনি। তার অসাধারণ ইনিংসে ভর করে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে একটি স্মরণীয় জয় পায়।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত শুরুতেই বিপাকে পড়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই পাকিস্তানি পেসার আলী রাজার শিকার হন অধিনায়ক লক্ষ্ম্য রাইচান্দানি। কোনো রান না করেই তিনি ফিরে যান।
শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ভারত আরও দুই উইকেট হারায়। আলী রাজা ফিরিয়ে দেন ভিকে বিনীতকে। তিনি ২৯ বলে ৮ রান করেন। অন্যদিকে ১১ বলে ১ রান করা যশবর্ধন চৌহানকে ফেরান রিজওয়ানউল্লাহ। ফলে ১১.৪ ওভারে ২২ রানেই ৩ উইকেট হারায় ভারত।
এরপর ৩০ বলে ২২ রান করা আর্যবীর শেবাগকে ফেরান নিকাব শফিক। তার ইনিংসে ছিল একটি করে চার ও ছক্কা।
পঞ্চম উইকেটে অরুণ রাজপুত ও অন্বয় দ্রাবিড়ের জুটিতে ভারত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তাদের ব্যাটিংয়ে ৫০ রানের গণ্ডি পেরোয় দলটি। তবে ১৬ বলে ১০ রান করা দ্রাবিড়কে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নিকাব।
৭০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন অরুণ। মানাল চৌহানকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ রানের একটি জুটি গড়েন। এই জুটিতে অরুণ ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক, আর তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন চৌহান। দুজনের ব্যাটিংয়ে ভারত ১৫০ রানের গণ্ডি পেরোয়।
এরপর যুব ওয়ানডেতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন অরুণ রাজপুত। তবে রিজওয়ানউল্লাহর বলে ১৯ বলে ১১ রান করা চৌহান আউট হলে ভাঙে তাদের জুটি।
এরপর সেট হয়ে যাওয়া অরুণকেও ফিরিয়ে দেন রিজওয়ানউল্লাহ। ৮৫ বলে ১১ চার ও ৫ ছক্কায় ১০৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি ফিরে যান। তার বিদায়ে ৩৫.২ ওভারে ১৭০ রানে ৭ উইকেটে পরিণত হয় ভারত।
এরপর আলী রাজা নিজের তৃতীয় উইকেট হিসেবে ফেরান ১৪ বলে ৪ রান করা যশবীর গৌড়কে। নিকাব শফিকও পূর্ণ করেন নিজের তিন উইকেট। তার শিকার হন ১২ বলে ৭ রান করা মোহিত উলভা।
শেষদিকে কাব্য পারেশ প্যাটেলকে ৪৫ বলে ২৩ রানে ফিরিয়ে ভারতের ইনিংস গুটিয়ে দেন মোহাম্মদ সাইয়াম। তার ইনিংসে ছিল একটি চার।
পাকিস্তানের হয়ে আলী রাজা, রিজওয়ানউল্লাহ ও নিকাব শফিক প্রত্যেকেই ৩টি করে উইকেট নেন। বাকি একটি উইকেট পান মোহাম্মদ সাইয়াম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন