প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির ঘাটতি বিরাজমান রয়েছে; এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সংকটের তাৎক্ষণিক কোন সমাধান না থাকলেও, মানুষদের কষ্ট কিভাবে কমানো যায়, সেই বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এইসব মতামত তুলে ধরেন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ সময়টা কারও জন্যই স্বস্তিদায়ক নয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি আছে; এই সত্যটিকে তিনি অস্বীকার করছেন না। এই সমস্যার দায় তার নন, এটাও তিনি পরিষ্কারভাবে জানাতে চান। তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে এ কারণে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিক কোন সমাধান নেই, তবে মানুষের কষ্ট কিভাবে লাঘব করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানির সংস্থান করতে আমাদের সক্ষমতা নেই। গ্যাসভিত্তিক সব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে পারলে এই সংকট সৃষ্টি হতো না। বর্তমানে, দেশে গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে এলএনজি আমদানির সক্ষমতাও সীমিত।
আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের স্বার্থে নতুন এক ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল করার ব্যাপারে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে বলে জানান তিনি। তবে কাজ করতে গিয়ে দেশের স্বার্থের সঙ্গে কোন ধরনের আপস করার ইচ্ছা নেই। সরকারের বাকি সাড়ে চার বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এলপিজি দাম সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, জনগণ বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাচ্ছে না। এই কারণে সরকার এলপিজি খাতে অংশীদারিত্ব নিয়ে আসতে চায়, যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
সেমিনারে ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরী বলেন, বেসরকারি খাতকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। বাংলাদেশে জ্বালানির খরচ বিশ্বের অন্যতম কম বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে গণমাধ্যমে যে আলোচনা হচ্ছে, তারও তিনি সমালোচনা করেন। আজম জে চৌধুরী বলেন, এলপি গ্যাস বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে; এই ধারণা সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, বেসরকারিকরণ নিয়ে এখনও কোন আলোচনা হয়নি। অথচ বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। না বুঝে অনেক কথাবার্তা বলার ফলে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, নতুন সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বৈপ্লবিক কিছু করতে না পারলে আগের সরকারের মতোই ব্যর্থতার মুখে পড়তে হবে।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট নীতির মাধ্যমে যারা এগিয়ে আসছেন, তারা নিজেদের মতো করে ব্যবসা পরিচালনা করতে চান।
জ্বালানি খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও সক্ষমতার প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাপেক্সের সক্ষমতা নেই বলেই প্রচার করা হচ্ছে। অথচ দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। বড়পুকুরিয়ায় কয়লা কেন ব্যবহার করা যাচ্ছে না, সেই প্রশ্নও থেকেই যাচ্ছে। মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সঠিক পরিকল্পনা এবং বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন