প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপে প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনায় ইরানের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে দেশটির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করেছে ব্রিটেন। মঙ্গলবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আলি নাসিমফারকে সরকারের উদ্বেগ জানানো হয়।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্স চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর জন্য একটি প্রক্সি গোষ্ঠীকে নির্দেশ দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আলি নাসিমফারকে তলব করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই প্রক্সি গোষ্ঠীর নাম ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কম্প্যানিয়নস অব দ্য রাইট’। ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য এটি একটি হুমকি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানায়, বহুবার সতর্ক করে দেওয়া সত্ত্বেও ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ করেনি। বরং তারা ইউরোপে এসব কর্মকাণ্ড আরো বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে যুক্তরাজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নিয়মিত দাপ্তরিক সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে লন্ডনে ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা বিদেশে হামলা চালাতে কোনো প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে না। এর এক দিন আগে, সোমবার, নতুন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে আইআরজিসি এবং এর সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীকে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। সরকারের ভাষ্য, বিদেশি রাষ্ট্রগুলো যাতে প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে নজরদারি, নাশকতা বা অন্য কোনো গোপন অভিযান চালাতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে ইরান। মঙ্গলবার ইরান জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি আনুষ্ঠানিক অংশ। তাই একটি রাষ্ট্রীয় সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে দাবি করেছে তারা। কুদস ফোর্স হলো আইআরজিসির বিশেষ শাখা, যা ইরানের বাইরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আগেই আইআরজিসিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ব্রিটেন ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক টানাপড়েন বেড়েছে। ইউরোপে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই প্রক্সি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ এবং ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলবের ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন