প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে বাজেটটি ঘোষণা করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
নতুন বাজেটের আকার গত অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় ১১৭ কোটি ৭১ লাখ ২৯ হাজার টাকা কম। তবে বরাদ্দের এই হ্রাসের চেয়ে বড় একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে পূর্ববর্তী বাজেটের বাস্তবায়ন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ ৩৬ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সংশোধিত বাজেটে তা ৩৩৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকায় নেমে আসে। অর্থাৎ প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৭ দশমিক ১২ শতাংশ।
বাজেট ঘোষণার সময় কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু জানান, গত অর্থবছরে রাজস্ব তহবিল থেকে আয় অর্জনের হার ছিল ৭১ দশমিক ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে উন্নয়ন তহবিলের অর্জন ছিল মাত্র ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর ফলে সামগ্রিক বাজেট বাস্তবায়ন অর্ধেকেরও নিচে আটকে যায়।
কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং কিছু প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এবার বাজেটের আকার কমেছে।এছাড়া, নিজস্ব আয় বাড়িয়ে করপোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
নতুন বাজেটে রাজস্ব তহবিল থেকে আয় ধরা হয়েছে ২২১ কোটি ৯০ লাখ ৫ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরকারি অনুদান ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং বিশেষ প্রকল্প অনুদান ৭৯ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বাজেটের মোট আয়-ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকা।
এবার নতুন কোনো কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়নি। বকেয়া কর আদায়, নতুন নির্মিত স্থাপনা করের আওতায় আনা এবং বাজার, দোকান ও নতুন স্থাপনা থেকে নিজস্ব আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ ও নগরের বিভিন্ন পার্ক আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নিজস্ব তহবিল থেকে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৫৫ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয় হবে গণপূর্ত, অবকাঠামো, সড়কবাতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সামাজিক কল্যাণ, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ ও পরিচ্ছন্নতা খাতে। মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা।
এডিপির আওতায় উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গণপূর্তে ৯২ কোটি ৮৭ লাখ, জরুরি পানি সরবরাহে ২ কোটি, প্রাণিসম্পদে দেড় কোটি, জনস্বাস্থ্যে ২০ কোটি ৫০ লাখ এবং পরিচ্ছন্নতায় ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
জাতীয় এডিপির তিন প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। মহানগরীর ড্রেনেজ উন্নয়নে ১২ কোটি ৫০ লাখ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৬ হাজার টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বর্জ্যব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৯৩ কোটি ৪০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
বিশ্বব্যাংক, এডিবি, কেএফডব্লিউ, এসএনভি ও জিআইজেডসহ উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ৭৯ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে শলুয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রিত ডাম্পিং পয়েন্ট নির্মাণ এবং বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সড়ক, ড্রেন, কালভার্ট ও নিম্নআয়ের বসতিতে উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। ইউনিসেফের সহায়তায় বাস্তুহারা এলাকায় ১০টি ক্ষুদ্র বর্জ্যপানি শোধনাগার এবং রাজবাঁধ-২ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পাশে মেডিক্যাল বর্জ্যব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নগরে প্রায় ৫০ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, জনসচেতনতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছে কেসিসি। পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতদের মাধ্যমে প্রচারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।কেসিসির সামনে রয়েছে দুটি বড় প্রকল্প।
মন্ত্রণালয়ের সভায় অনুমোদন পাওয়া নগরের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ২৫৫ কোটি ১ লাখ ২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১৮ কোটি টাকা। প্রকল্প দুটি শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
বাজেট ঘোষণায় প্রশাসক নিয়মিত কর পরিশোধ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং বাড়িঘরের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কেসিসির নিজস্ব আয় বাড়ানো এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এসময় খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) সদস্য মো. ইকবাল হোসেনসহ নাগরিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন