ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই আষাঢ়, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলহজ্জ, ১৪৪৭হিজরী
মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ইং ০২ই আষাঢ়, ১৪৩৩বাং

খাল খননের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্ত করা হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী


খাল খননের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্ত করা হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

তিনি জানিয়েছেন, সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা দখলমুক্ত করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রী মন্তব্য করেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি।

আরও পড়ুন: বিজয়-সংগীতার বিচ্ছেদের গুঞ্জনে নতুন মোড়

এ কাজ জনস্বার্থে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসন দায়িত্ব পালন করবে।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের সব খাল এখনো খালের অবস্থানে রয়েছে। যদি কেউ অবৈধভাবে সেখানে স্থাপনা গড়ে তোলে, তাহলে তাকে তা সরিয়ে নিতে হবে। বাকি বিষয় আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য মহৎ। সরকার নতুন আঙ্গিক ও নতুন উদ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় এবং এ জন্য সকলের সহযোগিতা খুব প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: বিরতির পর সমতায় ফিরল বেলজিয়াম

মন্ত্রী জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন, যা ছিল একটি আন্দোলন ও বিপ্লব। সেই ধারাবাহিকতায় তার জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং মন্ত্রীরাও এ কার্যক্রম শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, একযোগে খাল খনন কার্যক্রমে দেশে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে এবং জনগণ এর সুফল পাচ্ছে।

এখন পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাল খনন কর্মসূচি বন্ধ ছিল। সেই সময় কোনো সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি, যার ফলে অনেক স্থানে খালের পাড় দখল হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও খালে বর্জ্য এবং আবর্জনার স্তূপ জমেছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ দখলের অংশ।

এসময় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সলিম উল্যাহ সেলিম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমাসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: অভিনয়ের জগতে অভিষেক হচ্ছে লাক্স সুপারস্টার বর্ণিতার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসছে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, ছিনতাই ঠেকাতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ পি.এম


রাজধানীতে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসছে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, ছিনতাই ঠেকাতে

রাজধানীর মানুষদের জানমাল রক্ষা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, ছিনতাই ও মাদক প্রতিরোধে নজরদারি বাড়িয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর প্রেক্ষিতে মহানগরীতে ১১ হাজার নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

ডিএমপি জানায়, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য অপরাধপ্রবণ এলাকায় ব্লক রেইড অভিযান, পুলিশি টহল, বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের মতো বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে ডিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, নজরদারি বাড়ানোর জন্য ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা ঢাকা মহানগরীতে স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ছিনতাই ঠেকাতে ৭শ' সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। এগুলো স্থাপন হলে এই মহানগর আরও নিরাপদ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, মোহাম্মদপুর অপরাধপ্রবণ এলাকা হওয়ায় সেখানে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের বসিলায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও পেট্রোল ইন্সপেক্টর নিয়োজিত করা হয়েছে।

ডিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, অপরাধীদের ধরতে আমরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড করছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। আমরা তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবো। অপরাধীদের গ্রেফতার করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে আমরা গ্রহণ করেছি।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বাসস’কে জানান, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড অভিযান বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন পয়েন্টে ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে।

এসব ক্যামেরার সহায়তায় চুরি-ছিনতাই রোধসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও যানজট নিরসনে সফলতা অর্জিত হচ্ছে।

ডিএমপির বিভিন্ন এলাকা নজরদারির আওতায় আনতে নতুন একটি প্রকল্পের অধীনে সিসি ক্যামেরা কেনার প্রক্রিয়াও চলছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এন एम নাসিরুদ্দিন জানান, আওতাধীন এলাকায় ডিএমপি বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনুমানিক ৭১০টি এবং ‘ল অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কমিটির মাধ্যমে’ অর্থাৎ গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক বাড়ি মালিকদের সংগঠন বা সরাসরি ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২শ' ক্যামেরা স্থায়ীভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে সেখানে অপরাধের পরিমাণ কমে এসেছে।

স্থায়ী ক্যামেরার পাশাপাশি বিভিন্ন বড় উৎসব বা আয়োজনের সময় অস্থায়ী ক্যামেরাও বসানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, 'পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি বা ২৬ মার্চের মতো ইভেন্টগুলো কেন্দ্র করে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা স্থাপন করি। উদাহরণ হিসেবে, পহেলা বৈশাখে প্রায় পৌনে দুইশ’ ক্যামেরা অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছিল।'

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে ক্যামেরাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়, ফলে যে কোনো ত্রুটি হলে তা দ্রুত নজরে আসে। নষ্ট বা বিকল হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই তা মেরামত বা পরিবর্তন করে দ্রুত চালু করা হচ্ছে।

অপরাধ দমনে সিসি ক্যামেরার ভূমিকা উল্লেখ করে ডিসি নাসির বলেন, যে কোনো ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তে সিসি ক্যামেরা কার্যকরভাবে কাজ করছে। কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা যখনই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখতে পাই, সেখানে রেসপন্স টিম পাঠানোর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারামারি রোধের পাশাপাশি রাজধানীর যানজট নিরসনে এই ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডিএমপির কার্যকর ভূমিকা রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষ মানবপুঁজি তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কাজ করছে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


দক্ষ মানবপুঁজি তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কাজ করছে সরকার

দক্ষ মানবপুঁজি তৈরি করতে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।

রাজধানী ঢাকার হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফের আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রধান অতিথির বক্তব্যে, তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতার সঙ্গে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সরকার দেশের মোট জিডিপির পাঁচ শতাংশ শিক্ষাখাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন এবং মানোন্নয়নে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করতে সরকার প্রস্তুত।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার সকল চেষ্টা করবে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কখনোই দেড় শতাংশের বেশি হয়নি। দক্ষ মানবপুঁজি তৈরি করার উদ্দেশ্যেই শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধিও অত্যন্ত জরুরি। বিগত সরকারের সময় ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপন করতে তারা ব্যর্থ হয়েছিল এবং সেখানে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল। বর্তমানে, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনের দিকে এগোচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জা ফখরুলকে রাজশাহীতে স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


মির্জা ফখরুলকে রাজশাহীতে স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাজশাহীতে স্বাগত জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

আজ শুক্রবার, সকাল ৮টায় শাহমখদুম বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান মাহফুজুর রহমান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নওগাঁ সফরের উদ্দেশ্যে রাজশাহী পেঁছেছেন। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত আলাপ করেন রাসিক প্রশাসক।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, নাজুক যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


যুক্তরাষ্ট-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, নাজুক যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে, নাজুক যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে ইরানের হামলার পরও যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এটিকে ‘তুচ্ছ ঘটনা’ বলেও উড়িয়ে দেন।

এই তথ্যটি খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাবে তারা দেশটির সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে, তেহরানের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম আক্রমণ চালায়।

এই সংঘাতের কারণে গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সমাপ্তি ঘটেছিল।

সেই সময় মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় এবং বিশ্বে তেল ও গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে।

ওয়াশিংটনে ইরানের যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল আছে কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, যুদ্ধবিরতি বহাল আছে। তারা আজ আমাদের নিয়ে খেলতে চেয়েছিল। আমরা তাদের উড়িয়ে দিয়েছি। তারা তুচ্ছ কাজ করেছে। আমিও এটিকে তুচ্ছই বলবো।’

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ইরানি বাহিনী তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। তবে কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

সেন্টকম বলেছে, তারা ‘আসন্ন হুমকি প্রতিহত করেছে এবং দায়ী ইরানি সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।’

এছাড়া, তারা আরও জানায়, ‘সেন্টকম উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’

অন্যদিকে, ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ এবং অন্য আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানি বাহিনী ‘তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক জাহাজে পাল্টা হামলা’ চালায়।

এর একদিন আগেই, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ‘চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’ তবে তেহরান যদি পিছু না হটে, তাহলে আবারও হামলার হুমকি দেন।

বৃহস্পতিবারের হামলার পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইরান যদি দ্রুত চুক্তিতে সই না করে, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আরও কঠোর ও ভয়াবহভাবে জবাব দেব।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কাছে তারা তাদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।

বৃহস্পতিবারের গোলাগুলির আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আশাবাদী সুরে টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই যুদ্ধবিরতি একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে রূপ নেবে।’

-বলছে লেবানন আলোচনা-

তবে, ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সন্দেহ ও অনিশ্চয়তা দেখা গেছে।

প্যারিসে অবস্থানরত ৪২ বছর বয়সী আলোকচিত্রী শেরভিন তেহরান থেকে এএফপি প্রতিনিধিকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, ‘এই আলোচনার কোনো পক্ষই বাস্তবে সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা ট্রাম্পের আরেকটি রাজনৈতিক কৌশল। না হলে এত যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক শক্তি কেন ইরানের দিকে পাঠানো হচ্ছে?’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যদি কোনো সমঝোতা হয়, তাহলে লেবাননের চলমান উত্তেজনাও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে, বুধবার দক্ষিণ বৈরুতে ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর এক কমান্ডার নিহত হওয়ার পর সেখানে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আগামী ১৪ ও ১৫ মে নতুন দফা আলোচনার কথা রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি হবে দু’দেশের মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠক। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশ দুটি কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মঙ্গলবার বলেন, ইসরাইল এবং লেবাননের মধ্যে ‘খুব শিগরিরই’ শান্তিচুক্তি সই করা সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমস্যাটি ইসরাইল বা লেবানন সরকার নয়; এক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিজবুল্লাহ।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালানোর পর লেবাননও এ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

- বহু জাহাজ হরমুজে আটকা-

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় দেড় হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। পানামায় অনুষ্ঠিত ‘মেরিটাইম কনভেনশন অব দ্য আমেরিকাস’ সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

ট্রাম্প সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে স্বল্প সময়ের জন্য একটি নৌ অভিযান শুরু করেছিলেন। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পেয়ে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা স্থগিত করা হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় বরাবরই কড়া সমালোচনা করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন দার লেয়েনের সঙ্গে তার ‘চমৎকার’ ফোনালাপ হয়েছে। ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে—এ বিষয়ে তারা ‘সম্পূর্ণ একমত’ বলে জানিয়েছেন উরসুলা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলহজ্জ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৪৩
জোহর ১২:০০
আসর ০৪:৪০
মাগরিব ০৬:৪৭
ইশা ০৮:০৯
সূর্যোদয় : ০৫:১১ সূর্যাস্ত : ০৬:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%