প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার একটি বিখ্যাত জীবাণু গবেষণা কেন্দ্রে ২৮ বছর বয়সী এক নারী কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক সংবাদমাধ্যমে টেস্টটিউব ভেঙে মহামারি ‘নিউমোনিক প্লেগ’ ছড়িয়ে পড়ার গুঞ্জন উঠলেও রাশিয়া দাবি করছে, ল্যাব থেকে কোনো জীবাণুর সংক্রমণ ঘটেনি। তবে ক্রেমলিনের তথ্যে সন্তুষ্ট নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এই মৃত্যুর পেছনে আসল কারণ কী, তা জানতে মস্কোর কাছে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।
এএনআই এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত সাইবেরিয়ার ‘ইরকুটস্ক অ্যান্টিপ্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এ। ইনস্টিটিউটের ল্যাব সহকারী দারিয়া শিপিলোভা গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনাবশত টেস্টটিউব ভাঙার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়। দ্রুত অবস্থার অবনতি হলে তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২ অক্টোবর তিনি মারা যান। ঘটনাটি জনসমক্ষে আসতেই প্লেগ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার পর রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য সংস্থা ‘রসপোট্রেবনাডজর’ জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ২০০ জন মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠায়। তবে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত কর্মীর শরীরে কাজের সাথে সম্পর্কিত কোনো বিপজ্জনক অণুজীব পাওয়া যায়নি। ল্যাবে কোনো জীবাণু দুর্ঘটনাবশত বাইরে ছড়ানোর প্রমাণ মেলেনি। চিকিৎসাগত পর্যবেক্ষণে থাকা কারও শরীরে প্লেগের লক্ষণ নেই।
রাশিয়ার এই ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত হতে পারছে না ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির প্রধান ড. টেড্রস আধনম গেব্রেয়াসুস বলেন, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা অনুযায়ী মস্কোর কাছে আরো সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হলেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো অস্পষ্ট। ল্যাব পরীক্ষা ও সংক্রমণের পথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন স্পষ্ট করেছে, যেকোনো সম্ভাব্য বিশ্বজনীন স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে পারস্পরিক বিরোধী সংবাদ স্পষ্ট করা এবং তথ্য সরবরাহে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন