প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একজনের পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্য একজনকে ইতালি পাঠানোর অভিযোগে গুলশান থানার মামলায় গ্রেপ্তারের চার দিন পর প্রধান আসামি মো. বেলায়েত হোসেন জামিন পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার শুনানি শেষে জামিনের এই আদেশ দেন।
তবে রিমান্ড শেষে অন্য আসামি নাজমুল হাসানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিন রিমান্ড শেষে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক তনুনন্দন রুরাম তাদের কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন। এ সময় বেলায়েতের আইনজীবী জামিনের জন্য আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বেলায়েতের জামিন মঞ্জুর করে এবং একই সঙ্গে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাজমুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সাত সদস্যকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গ্রেপ্তার করে। পরদিন মঙ্গলবার তাদের দুজনের একটি দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পাশাপাশি অপর পাঁচ আসামির রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন-মেহেদী হাসান, কাওসার হোসেন, মো. সোলাইমান সুমন, মো. তৌহিদুর রহমান ও ফজলে রাব্বী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তাসলিমা আক্তারের স্বামী সুমন মিয়া ১১ বছর যাবত ইতালিতে রয়েছেন। ইতালিতে চার সন্তানসহ স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু কোন কারণে তিনি ভিসা করতে ব্যর্থ হন। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার ইতালি দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর ১৪ মাস পার হলেও তিনি ভিসা পাননি। এই সময় তার পাসপোর্টের মেয়াদও ফুরিয়ে যায়। দূতাবাস থেকে মোবাইলের মাধ্যমে জানানোর পর তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নিতে যান। সেখানে আসামি নাজমুল তাকে বলেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করে দিতে পারবেন।
দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নবায়ন করানোর জন্য তাকে দিয়ে দেন। এতে নাজমুলের প্রতি তার বিশ্বাস জন্মায় এবং তিনি জানান যে, ইতালি যাওয়ার ভিসা করে দিতে পারবেন। গত ২ এপ্রিল গুলশানের জমাদার ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস অফিসে গিয়ে তার সঙ্গে বেলায়েতের পরিচয় হয়। ভিসা করে দেওয়ার জন্য সাড়ে চার লাখ টাকায় মৌখিক চুক্তি হয়। ভিসা হয়ে গেলে তখনই টাকা পরিশোধ করতে হবে।
গত ১৬ তারিখে ইতালি দূতাবাস থেকে তিনি পাসপোর্ট সংগ্রহ করার পর বাহিরে বের হয়ে নাজমুলসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা তার কাছে চুক্তির অনুযায়ী টাকা চান। তখন তার কাছে টাকা না থাকায় আসামিরা পাসপোর্টটি কেড়ে নেয়। বাধ্য হয়ে তিনি তাদের ব্যাংক হিসাবে চার লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা দেন। টাকা বিতরণের পর তিনি পাসপোর্ট ফিরে পান। ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ৯ জুলাই বিমানবন্দরে গেলে তাদের আটক করা হয়। ইমিগ্রেশন থেকে জানানো হয়, গত ২৪ এপ্রিল তার পাসপোর্ট ব্যবহার করে একজন ইতালি গেছেন। এ ঘটনায় তিনি ২১ জুলাই রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন