প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ২৭ বছর বয়সী তরিকুল ইসলাম পবন নিহত হওয়ার ঘটনার পর তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ সময় পুলিশ মোবাইল ফোন, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, রাজু আহম্মেদ যিনি লাল চাঁন নামে পরিচিত (৩২), সজীব মৃধা (২৮) এবং জিহাদ মিয়া (২১)।
এ বিষয়ে শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক) তথ্য প্রকাশ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, গত ১৬ জুন রাতে বন্ধুদের সঙ্গে পবন মোটরসাইকেলে করে মাওয়া যাওয়ার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের ওপর বসে ছিলেন।
এ সময় মোটরসাইকেলে আসা তিন ছিনতাইকারী তাদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
এই হামলায় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পবনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে, সেই সঙ্গে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
এমন সময় পবনের বান্ধবী লামিয়া আক্তারের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়, সঙ্গে তারা তার ভ্যানিটি ব্যাগ এবং একটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত পবনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডাক্তারের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে শুভাঢ্যা ও আগানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তারা নিয়মিত চুনকুটিয়া বেবীস্ট্যান্ড এলাকায় বসে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করতেন এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুবিধার জন্য ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে অঞ্চলকে ছিনতাইয়ের জন্য বেছে নিতেন।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিলুল হক নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন