প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় নিহত পুলিশের কনস্টেবল আলামিনের মা সেলিনা বেগম বিলাপ করে বলেন, "আমার বাবায় পুলিশ অইছিল, আমার বাপ বুকটা ভইরা গেছিল। আমার হেই বুকটা এহন খালি অইয়া গেছে রে! আমার বাবায় জানি কত কষ্ট পাইয়া মরছে।"
নিহত আলামিন ছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধ খালি গ্রামের আব্দুল হক সরদারের ছেলে। তিনি পরিবারের মধ্যে পঞ্চম সন্তান, যেখানে ছয় ভাই ও এক বোন রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত আলামিনের আড়াই মাস বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে কোতোয়ালি থানার ওয়াসা মোড় এলাকায় জমিয়াতুল ফালা জামে মসজিদের সামনে চেকপোস্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন আলামিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এ সময় সন্দেহজনকভাবে হাঁটতে দেখে তিন যুবককে থামার সংকেত দেন তারা। এক যুবক পালানোর চেষ্টা করলে, কনস্টেবল আলামিন মোটরসাইকেল নিয়ে মসজিদের পশ্চিম গেটের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি বাস আলামিনের মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ফলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান এবং বাসটি তাকে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ গজ পর্যন্ত টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। পরে সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে তার মৃত্যু ঘটে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলামিনের মরদেহ লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়নি। সোমবার রাত ১০টায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিহত আল আমিনের বাবা আব্দুল হক সরদার বলেন, "কয়দিন আগে ছুটিতে আইছিল আলামিন। শুক্রবার জুমার পরে আমার সাথে ছবি তুলেছিল। আমি তো বুঝি নাই যে এইডাই আমার বাবার সাথে আমার শেষ ছবি। আমার সাত সন্তানের মধ্যে আমার আলামিন ছিল সবচেয়ে নম্র-ভদ্র।"
আলামিনের একমাত্র বোন হালিমা বলেন, "আমার একটা ভাই পুলিশ হইছে, আমরা যে কত গর্ব করছি। আল্লাহ যে আমার ভাইরে এত তাড়াতাড়ি নিয়া যাইব, আমরা তো তা জানতাম না।"
আলামিনের স্ত্রী ইশরাত জাহান রিয়া কেঁদে কেঁদে বলেন, "আমি এখন কীভাবে বেঁচে থাকব? আমার আড়াই মাসের মেয়ে নিয়ে কার দুয়ারে যাব? আমার মেয়ে কাকে বাবা বলে ডাকবে? আল্লাহ, তুমি আমারে এত অল্প বয়সে কী করলা?"
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমাদের একজন পুলিশ সদস্য এভাবে চলে যাওয়া কাম্য নয়। আমি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি, এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন