প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক দম্পতিকে, যারা লাখ টাকার চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. জিহাদ আলী লস্কর ও তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তার এই দম্পতি।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পিবিআই-এর তদন্ত অনুযায়ী, জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘ সময় ধরে কম্বোডিয়ায় অবস্থান করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিকে মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস প্রদান করতেন।
তিনি বলেন, মোসতাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুল নামে দুই প্রতিবেশী তাঁকে বিশ্বাস করে প্রত্যেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন। পরে জিহাদ এবং তাঁর স্ত্রী তাঁদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে যায়, কিন্তু প্রতিশ্রুত চাকরি প্রদান করা হয় না।
বরং, কম্বোডিয়ায় ভুক্তভোগীদের মেয়েদের পরিচয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণামূলক কথোপকথন ও অন্যান্য অবৈধ কাজের জন্য বাধ্য করা হয়। এই সময় ভুক্তভোগীদের কোনো বেতন দেয়নি এবং অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছিল।
একপর্যায়ে, তাঁরা কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁদের স্বজনদের সহায়তায় দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এসে দুই ভুক্তভোগী পৃথকভাবে দৌলতপুর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই খুলনার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার সময় ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে জিহাদ আলী লস্কর ও সুমাইয়া সুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আদালতেও তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরো জানা গেছে, একই কৌশলে এলাকায় আরও কয়েকজনকে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এর মধ্যে একই এলাকার আরও দুই ব্যক্তি পৃথক দুটি মামলা করেছেন।
পিবিআই খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এই ধরনের অপরাধে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান, বিদেশে চাকরির প্রলোভনে অর্থ লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার জন্য।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন