প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ও সদর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের বিষাক্ত থাবা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার মতো মারাত্মক সব মরণ নেশার ব্ল্যাকহোলে হারিয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। মাদকের এই বিষাক্ত কালো ধোঁয়া যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বিপন্ন করে তুলছে একের পর এক পরিবারকে। বিশেষ করে মরণনেশা ইয়াবা সেবনের ফলে মাদকাসক্ত যুবকদের পরিবারগুলো মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ১৫টি ওয়ার্ডেই মাদকের কেনাবেচা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শুধু পৌর এলাকাই নয়, মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এখন জাল বিছিয়েছে সদর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। উপজেলার রতনকান্দি বাগবাটী ছোনগাছা খোকশাবাড়ি বহুলী শিয়ালকোল কালিয়াহরিপুর ও সয়দাবাদ ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা। সহজলভ্যতার কারণে দিন দিন মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, যার বড় একটা অংশই তরুণ ও যুবসমাজ।
সুত্রে জানা যায়, শহরতলীর কতিপয় পবিত্র স্থানের আনাচে কানাচে চলন্ত মোটরসাইকেল ও ঘাপটিমারা থাকা যুবকেরে মাদক হাত বদল হয়। সয়াধানগড়া শহীদগঞ্জ ও শাহেদনগর সিমান্তবর্তি, কাঠের পুল, পুটিয়াবাড়ি, মাহমুদপুর রেলকলোনী সয়াগোবিন্দ, স্পিনিং এন্ড কটন মিল, নয়াচর ফুলবাড়ি জানপুর ব্যাংকপাড়া ছোনগাছা ফুলকোচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাগবাটী পুনর্বাসন পিপুলবাড়িয়া, খোকশাবাড়ি ব্রাক্ষমবয়ড়া রতনকান্দির চিলগাছা ও কুড়ালিয়া কালিয়াহরিপুুরের পুনর্বাসন সয়দাবাদ পুনর্বাসনসহ ভ্রাম্যমান মাদক কারবারির দুরত্ব বেড়ে চলেছে।
মাদকের এই ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং মাদকের চেইন ভেঙে দিতে ইতিমধ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন। রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে মাদক প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট করার ডাক দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সদর থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদক বিক্রি ও সেবনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অনেককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানসহ জেলহাজতে প্রেরণ করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান- এর সরাসরি নেতৃত্বে শহর, শহরতলী এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে দিনরাত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এই সাঁড়াশি অভিযানের ফলে অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী ইতিমধ্যে আইনের আওতায় এসেছে এবং এই কার্যক্রম বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।
মাদকবিরোধী এই অভিযান সম্পর্কে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন:
"মাদকের সাথে কোনো আপোস নেই। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের পরিচয় শুধুই তারা অপরাধী। এদের পক্ষে সমাজের কোনো স্তর থেকেই কোনো ধরনের তদবির বা সুপারিশ মেনে নেওয়া হবে না। যুবসমাজকে রক্ষায় এবং সিরাজগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান আরও বেগবান করা হবে। তিনি বলেন - মাদক কারবাদি ও সেবনকারি মিলে ১ মাসে ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে তারা মনে করেন, কেবল পুলিশি অভিযান দিয়ে মাদক পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়। এর জন্য পারিবারিক সচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ এবং যুবসমাজের জন্য সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা জরুরি। সিরাজগঞ্জকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন