প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বালুভর্তি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে হাসানুর (৭) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে এক লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। শিশুর মৃত্যুর পর অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাঁকুয়াবাড়ি গ্রামের পাকা রাস্তার মাথায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হাসানুর ওই গ্রামের আনিসুর রহমান ও হাসনা বেগমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালুভর্তি একটি ট্রাক্টরের চাকা শিশুটির শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক্টরটির মালিক ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পণ্ডিতপাড়া গ্রামের ফুলবর মিয়া বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে, সাত বছরের শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে এক লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাঁদের প্রশ্ন, একটি শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় এভাবে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা কতটা গ্রহণযোগ্য?
সমঝোতার বিষয়ে নিহত শিশুর ফুফা হাছিমুদ্দির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে এক লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন,আমি বিষয়টি জেনেছি। পরে স্থানীয় লোকজন এক লাখ টাকায় সমাধান করেছেন।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক প্রধান জানান, ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেও থানায় মামলা বা অভিযোগ না করেই তড়িঘড়ি করে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
হাসানুরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালুভর্তি ট্রাক্টরের বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন