প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের শুরু হওয়ার আগের দিন, সোমবার ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং অনেক সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।
এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকার উপর দিয়ে দ্বিতীয় বড় হামলা। একই সময়ে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা আরও জোরদার করেছে।
মঙ্গলবার, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হওয়া ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে কিয়েভে পাওয়া খবরে বলা হয়েছে, চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে শান্তি প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলবেন।
সোমবার ভোরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করার সময়, কিয়েভে অবস্থানরত এএফপির এক সাংবাদিক ১০টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন। প্রায় ৩০ মিনিট পর আরো কয়েক দফা বিস্ফোরণের সময় আকাশে একাধিক আলোর ঝলকানিও দেখেছেন তারা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিয়েভে ১০ জন এবং রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমের বুচা জেলায় একজন নিহত হয়েছেন। রাজধানীতে অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন এবং আশপাশের এলাকায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চলে সামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘বড় ধরনের হামলা’ চালিয়েছে।
কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, হামলায় চারটি স্থানে আগুন লেগেছে। এই সবগুলো স্থান ছিল আবাসিক ভবন। তিনি বলেন, ‘এসবই এমন জায়গা, যেখানে মানুষ রাতে ঘুমিয়েছিল।’
সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে ক্রেমলিনের যুদ্ধ সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে রাশিয়ার ভেতরের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। এছাড়া, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ থেকেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে কিয়েভ।
রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, সেভাস্তোপলের কাছে ইউক্রেনের এক হামলায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎকর্মীরা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় সব স্থাপনায় আবার বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে সক্ষম হয়েছেন। সেভাস্তোপলের অধিকাংশ আবাসিক ভবনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।’
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন রাষ্ট্রীয় সমর্থিত ম্যাক্স প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাজধানীমুখী কয়েক দফা ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর মস্কো ও রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়াসহ ২০টির বেশি অঞ্চলে ইউক্রেনের ৫১৯টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
-কূটনীতি ও যুদ্ধ একসঙ্গে-
হোয়াইট হাউস জানাচ্ছে, ন্যাটো সম্মেলনের সময় বুধবার ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্যই প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এটি দীর্ঘদিন ধরেই তার অগ্রাধিকার।’
তিনি আরও বলেন, এরপর ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করতে বসবেন।
এমন পরিস্থিতিতে, যখন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রায় স্থবির হয়ে গেছে, জেলেনস্কি রবিবার বলেছেন, ইউক্রেনীয় সেনারা এখনো দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর কোস্তিয়ানতিনিভকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই করে যাচ্ছে। শহরটি দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলোর প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাশিয়া শুক্রবার শহরটি দখলের দাবি করলেও কিয়েভ সেই দাবি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। জেলেনস্কি রাতের ভাষণে বলেছেন, ‘কোস্তিয়ানতিনিভকার জন্য লড়াই এখনো চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ øাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই শহরটিকে নিজের বলে দাবি করেছেন। কিন্তু এটা স্পষ্ট, সেখানে যাওয়ার সাহস তিনি কখনোই করবেন না।’
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন পুতিন ও জেলেনস্কি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন