০৮:১৩ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্য থেকেই তৈরি হবে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে ওঠার জন্য আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘আমি চাই, তোমরা যারা গ্যালারিতে বসে আছো, তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হবে। বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তোমাদের নিতে হবে। কারণ, তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ।’
আজ শনিবার বিকালে সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: পুলিশের লুট হওয়া সহস্রাধিক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি
এই অনুষ্ঠান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সংটি প্রচার করা হয়।
শিক্ষার্থীদের তুমুল করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বক্তৃতা দিতে ইচ্ছা হচ্ছে না। মনে হচ্ছে, তোমাদের সাথে আমি কথা বলি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এখন সময় পড়াশোনা ও খেলাধুলা করার। নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায়, সে খেলোয়াড় হবে। একইসাথে যে গান শিখতে চায়, সে গান শিখবে, এবং যে মিউজিশিয়ান হতে চায়, সে মিউজিশিয়ান হবে। ইনশাল্লাহ, সেই ব্যাবস্থা আমরা করে দেব।’
সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সহ সারাদেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা, তোমরাই এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।’
আরও পড়ুন: নিরাপদ অভিবাসনে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় লাগবে। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। বাংলাদেশকে তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা কি পারবে?’
এই সময় পুরো গ্যালারিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলেছে, ‘হ্যাঁ পারবো।’ এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, তোমরা অবশ্যই পারবে ইনশাল্লাহ।’
ছোট্ট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এই বাংলাদেশে তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে ইনশাল্লাহ।’
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেককে গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।’
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডনে যাচ্ছেন কাল
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তার উন্মোচন ঘটানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে এসেছে সেটা আমি বলব। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর আগে একটি ঘটনা ঘটেছিল, আমিনুল লন্ডনে গিয়েছিল। একদিন আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম, আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ, তখন স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম। অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ করতে করতে খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে আমরা বাংলাদেশে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করবো।’
বক্তব্য শুরুর আগে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন খেলাধুলার ইভেন্ট যেমন ক্রিকেট, কাবাডি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টস সহ মোট ৮টি ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করে। এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন এবং তা নিয়ে করতালি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সাথে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লগো উন্মোচন করেন।
এরপর স্টেডিয়াম মাঠে গিয়ে ৮টি ক্রীড়া ইভেন্টের প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচিত হন, কুশল বিনিময় করেন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন। এ সময় তার সাথে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও ছিলেন।
আরও পড়ুন: বৈধ প্রক্রিয়ায় হজের অনুমতিপত্র গ্রহণের আহ্বান ধর্ম মন্ত্রণালয়ের
স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ক্রীড়া পরিদপ্তর এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভার অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় এবারের উদ্যোগ ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য রেখেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এম এ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি উধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুলকে রাজশাহীতে স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন