প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আনা নতুন নীতিমালার বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গবেষণা তহবিল সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে না দিয়ে ইউজিসির মাধ্যমে পরিচালনার এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রাচীনতম ও শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠের একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন এবং গবেষকদের স্বাধীনতা চরমভাবে খর্ব করবে।
বুধবার (১ জুলাই) সাদা দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এই উদ্বেগ ও দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রথাগতভাবে গবেষণা প্রকল্পের অনুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেটের অংশ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হতো। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নীতিমালা ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী এই বরাদ্দ পরিচালনা করত। ফলে গবেষণা তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং গবেষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী তহবিল বণ্টন সম্ভব হতো।
কিন্তু চলতি অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে সরাসরি কোনো বরাদ্দ না দিয়ে, সেই অর্থ ইউজিসির মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান গবেষণা ব্যবস্থাপনা মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে গবেষণা অনুমোদন, অর্থছাড় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হবে বলে সাদা দলের শিক্ষকেরা আশঙ্কা করছেন।
সাদা দলের শিক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে ৬৩টি ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। সরাসরি বরাদ্দ না পাওয়ায় এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রম, অনুদান ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজগুলো স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষকরা মনে করছেন, এই নেতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু শিক্ষক ও গবেষকদের ওপরেই পড়বে না, বরং শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সুনাম এবং সামগ্রিকভাবে দেশের গবেষণা পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সামনে রেখে, সাদা দল ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি করেছে। তারা অবিলম্বে গবেষণা বাজেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে বরাদ্দের পুরনো রীতি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং গবেষণার জন্য একটি স্বাধীন ও কার্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন