প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম প্রতীকগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি একটি। মাঠে নামলেই এই রঙ দেশটির ফুটবল ঐতিহ্য, গর্ব এবং কোটি সমর্থকের আবেগের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। জার্সির নকশা ও প্রযুক্তিতে পরিবর্তন এলেও আকাশি-সাদা রঙের ঐতিহ্য আজও অটুট রয়েছে।
১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনা এই বিখ্যাত আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি পরে খেলছে। এরপর থেকে বিশ্ব ফুটবলের একটি অন্যতম পরিচিত পরিচয়ে পরিণত হয়েছে এই জার্সি। বর্তমানে জার্মান ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জন্য জার্সি তৈরি করছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি দলটির অফিসিয়াল কিট প্রস্তুতকারক হিসেবে কাজ করছে, যদিও মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য এই সম্পর্কের বিরতি ঘটেছে।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন জার্সিতেও ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা নকশা রাখা হয়েছে। ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী জার্সির বিভিন্ন নকশাগত উপাদান থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে নতুন জার্সিটি অতীতের গৌরব ও বর্তমানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক প্রতীকী সংমিশ্রণে পরিণত হয়েছে।
শুধু জার্সিই নয়, আর্জেন্টিনার শর্টসের ইতিহাসেও পরিবর্তনের ছাপ রয়েছে। শুরুতে তারা গাঢ় নীল শর্টস ব্যবহার করলেও ১৯৭৮ সালের পর ধীরে ধীরে কালো শর্টস নিয়মিত ব্যবহার করতে শুরু করে। এটি ধীরে ধীরে দলের পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।
তবে আর্জেন্টিনার জার্সির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়টি নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে গরম ও আর্দ্রতার কারণে দলের নির্ধারিত গাঢ় নীল দ্বিতীয় জার্সি খেলোয়াড়দের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
সময়ের স্বল্পতায় নতুন জার্সি তৈরি করা যায়নি বলে কোচ কার্লোস বিলার্দো তার সহকারী রুবেন মোশেল্লাকে মেক্সিকো সিটির বিভিন্ন দোকানে আরামদায়ক নীল রঙের জার্সি খুঁজতে পাঠান। শেষে একটি দোকান থেকে দুটি নমুনা জার্সি আনা হয়। সেখান থেকে একটি হাতে নিয়ে অধিনায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, "এই জার্সি পরেই আমরা ইংল্যান্ডকে হারাব।"
এরপর একই দোকান থেকে আরও ৩৮টি জার্সি সংগ্রহ করা হয়। তড়িঘড়ি করে প্রতিটিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাজ ও নম্বর সেলাই করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পরে সেই জার্সি গায়ে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা।
সেদিনই ফুটবল ইতিহাসের দুটি সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত; ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' এবং 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি' জন্ম নেয়। সেই ম্যাচের অবিস্মরণীয় জয়ের সঙ্গে ইতিহাসে জায়গা করে নেয় মেক্সিকোর একটি দোকান থেকে হঠাৎ করেই সংগ্রহ করা গাঢ় নীল জার্সিটিও।
আজ আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি শুধুমাত্র একটি খেলার পোশাক নয়। এটি বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব, ম্যারাডোনার جাদুকরী অধ্যায়, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নতুন সাফল্য এবং কোটি সমর্থকের ভালোবাসা ও আবেগের প্রতীক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন