প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশ্লেষক নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। তার মতে, ইসরায়েল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সামরিক সহায়তার ওপর পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
এই কারণে, ওই বিশ্লেষকের মত অনুসারে, ইসরায়েল একাই দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে পারবে, এমন একটি ধারণা বাস্তবতার সাথে মেলে না।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর কলাম লেখক এবং বিশ্লেষক গিদেওন লেভি বলেন, বর্তমানে ইসরায়েলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তিনি একথাও বলেন, এটি একেবারেই পরিষ্কার যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘না’ বলার অবস্থায় ইসরায়েল নেই। আর বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও নিশ্চয়ই ‘না’ বলার পরিস্থিতিতে নেই।
লেভির মতে, বাস্তব পরিস্থিতি হলো ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে যা করতে বলবেন, তাকে অবশ্যই সেভাবেই তা করতে হবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে লেভি জানান, গাজা, লেবানন ও ইরানে সামরিক অভিযানে যাবার পেছনে একটি প্রধান কারণ হলো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন। তার মতে, যুদ্ধ ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করে, যা সরকারকে আরো কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করে।
এছাড়া, আসন্ন নির্বাচনও এ ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হল যে, কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার পরিবর্তে নতুন যুদ্ধ শুরু করলে জনসমর্থন অর্জন করা তুলনামূলকভাবে সহজ। ইসরায়েলে এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে।
লেভির দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে হামলার পক্ষে জনমত ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। তবে তিনি মনে করেন, এই সমর্থন এখন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।
বর্তমানে ইসরায়েলে যুদ্ধ ক্লান্তি একটি সমস্যার রূপ নিচ্ছে। মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করছে যে, এই সব সামরিক অভিযানের বাস্তবিক কোনো লাভ পাওয়া যাচ্ছে না।
গাজা, লেবানন এবং ইরানে- কোনো ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়নি বলে অনেকেই মনে করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো অধিক মানুষ এটি বুঝতে পারবে- তিনি বলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন