প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় একটি আধুনিক ৫০ শয্যার হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই দফায় দফায় চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সরকারি মালামাল ও মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে, যা প্রায় অর্ধকোটি টাকার।
হাসপাতালটি দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং এটি সংঘবদ্ধ চক্রের অতর্কিত চুরির শিকার হয়েছে, এ বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। তবে, সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এই ক্ষতির দায় নিতে রাজি নয় বলে জানা গেছে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে ২০২০-২১ অর্থবছরে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়, যার বাজেট ছিল প্রায় ৫১ কোটি টাকা। সম্প্রতি হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে জেনারেটরের কয়েল, এসি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়ে যায়।
এছাড়া, এর আগেও কয়েক দফা চুরির ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে, আজ অবধি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
চারতলা মূল ভবন, চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য পৃথক আবাসন এবং আরও পাঁচটি ভবন নির্মিত হয়েছে। হাসপাতালটিতে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা এবং পাঁচ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিটও রয়েছে। তবে স্থানীয় একটি ব্যক্তির দায়ের করা স্থানান্তরসংক্রান্ত মামলার কারণে হাসপাতালটির ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত উদ্বোধন স্থগিত হয়। এরপর থেকে হাসপাতালটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর না হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ হয়নি। জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সেখানে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পর, সেনা সদস্যরা চলে যাওয়ার পর হাসপাতালটি আবারও অরক্ষিত হয়ে পড়ে এবং সেই সুযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের চুরি ঘটে।
এ ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি দীর্ঘদিন চালু না হওয়ার কারণে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। তারা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার পাশাপাশি চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চুরির ঘটনায় দায়িত্ব সম্পর্কে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। জেলা সিভিল সার্জনের দাবি, ভবনটি এখনও তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করা হয়নি। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের দায়িত্ব ছিল নির্মাণকাজ শেষ করা।
শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানিয়েছেন, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এই কমিটি চুরি যাওয়া মালামালের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এছাড়া, এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানাচ্ছেন, ‘চুরির ঘটনার পর একটি মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আধুনিক এই হাসপাতালটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই বারবার চুরির ঘটনা ঘটায় একদিকে বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকাবাসী তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন