প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮ক ধারা বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এটি মূলত তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকটসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ থেকে বাদ দিতে যাচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। মিনিটব্যাপী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হলে এরপর তা নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার উদ্দেশ্যে ১৮ক ধারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কারণ এই ধারার সকল শর্ত পুরোপুরি অনুসরণ করে এখন পর্যন্ত কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। এই কারণে এই ধারাটি বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যেই সংশোধনের খসড়াটি তৈরি হয়েছে।
আইনটির ইতিহাস হলো, তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন বিভিন্ন ঝুঁকির প্রসঙ্গ বিবেচনায় নিয়ে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। পরে, অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরের জন্য সংসদে উপস্থাপিত হলে তা বিশদ পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় ‘বিশেষ কমিটি’র কাছে পাঠানো হয়।
বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অধ্যাদেশের কয়েকটি বিধান আলাদা করে বাস্তবায়নের জন্য বিধিমালা তৈরি করা হয়। সরকারের আর্থিক দায়ভার, গ্রাহকদের স্বার্থ এবং ব্যাংকিং খাতের বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে আইনে নতুন ‘ধারা ১৮ক’ সংযোজন করে বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং প্রক্ষিপ্ত আকারে এটি ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ হিসেবে পাস হয়।
১৮ক ধারার মূল লক্ষ্য ছিল প্রচলিত রেজল্যুশন টুলগুলোর পাশাপাশি একটি বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। রেজল্যুশনের আওতাধীন ব্যাংকগুলিকে সচল রেখে পুনর্গঠন করাসহ মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট দূরীকরণ, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ কমানোর লক্ষ্যে এই ধারার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত সরকার এই ধারাটি বাতিলের পথে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন