প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন এই জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জনসমর্থনের একটি বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির দুটি রাজ্য আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়েও একটি আগাম সাধারণ নির্বাচনের গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে।
আনোয়ারের জাতীয় জোটের শরিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটির নেগেরি সেম্বিলান এবং জোহর রাজ্যের বিধানসভা যথাক্রমে গত শুক্রবার ও সোমবার ভেঙে দেয়া হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এই দুটি রাজ্যে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
যদিও এই রাজ্য নির্বাচনগুলো সরাসরি জাতীয় সংসদে আনোয়ারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না, তবে বড় ধরনের কোনো পরাজয় ২০২৮ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার গত মাসেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তার প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিভেদ যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে তিনি আগাম জাতীয় নির্বাচন ডাকার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। মালয়েশিয়ার বহু-জাতিগত এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে জাতিগত ও ধর্মীয় বিষয়গুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে আনোয়ারের জোটের শরিক পাকাতান হারাপান, সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী বারিসান ন্যাশনালের মতো দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য বিদ্যমান। পাশাপাশি সংস্কারের ধীরগতির কারণে প্রগতিশীল মিত্রদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এছাড়াও, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আমনো (ইউএমএনও) নেতা নাজিব রাজাকের রাজকীয় ক্ষমার দাবি নিয়ে জোটের অন্যতম শরিক দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের চাপের মুখে রয়েছেন আনোয়ার।
প্রসঙ্গত, বিলিয়ন ডলারের ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে ২০২২ সালে নাজিব রাজাক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। বর্তমানে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যটি পাকাতান হারাপান জোট শাসন করছে এবং সেখানে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অন্যদিকে, বারিসান ন্যাশনাল শাসিত জোহর রাজ্যে আগামী বছরের আগে নির্বাচন হতে হবে মনে হচ্ছিল না।
জোটের অভ্যন্তরীণ এই তীব্র টানাপোড়েনের প্রতিফলন হিসেবে বারিসান ন্যাশনাল ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা পাকাতান হারাপানের সমর্থন ছাড়াই জোহর রাজ্যের নির্বাচনে স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
অপরদিকে, নেগেরি সেম্বিলানের মোট ৩৬টি আসনের সবকটিতে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকাতান হারাপান, যেখানে গত নির্বাচনে তারা ১৭টি আসনে জয়ী হয়েছিল। আগামী মাসগুলোর মধ্যে দেশটির মেলাকা এবং সারাওয়াক রাজ্যেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, একটি আগাম সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করা হলে তা রাজ্য নির্বাচনগুলোর সাথে একই সময়ে আয়োজন করা সম্ভব হবে, যা রাজ্য নির্বাচনী খরচ অনেকাংশে বাঁচিয়ে দেবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন