প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বারবার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও সংঘাতের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় রাষ্ট্র ও সমাজের একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে বুয়েট শিক্ষক সমিতির আয়োজনে ‘মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে স্মরণ-আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা ঘোষণা করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, বারবার সংঘাত ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাওয়া আত্মসন্তুষ্টির বিষয় নয়, বরং এটি এক নির্মম বাধ্যবাধকতা। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এ সংঘাতময় পরিবেশ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোতে একটি জনমতের পাটাতন বা কাঠামো নির্মাণ করতে হবে, যার নিচে আর কেউ যেন নামতে সক্ষম না হয়।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী যুদ্ধ, পাকিস্তান আমল, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন— আমাদের ইতিহাস কৃত্তিম রূপান্তর ও বিদায়ের ইতিহাস। আমরা আজও একটি স্থায়ী এবং স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি, যা মানুষের মেধা, যোগ্যতা এবং বিকাশের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৩টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষটি ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। তবুও বর্তমান দৃষ্টিতে আমরা এখনও বলতে পারছি না যে আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থা বা বিচার বিভাগ একটি কাঙ্ক্ষিত এবং স্থায়ী কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। যদি আমরা এই রক্তদানের বিনিময়ে জবাবদিহিমূলক এবং সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নির্মাণে সক্ষম না হই, তবে আমাদের সার্বিক ব্যবস্থার ডিএনএ-তে মৌলিক ত্রুটি রয়ে গেছে বলেই চিন্তা করতে হবে।
তিনি আরো যোগ করেন, রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে বহুগুণী এবং মেধাবী ব্যক্তিদের দেশের সঠিক কাজে লাগাতে পারিনি। এই ত্রুটি দূর করে নতুন প্রজন্মের জন্য বৈষম্যহীন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়াই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক নয়, তরুণ প্রজন্মের পথপ্রদর্শকও। পাঠ্যক্রমের বাইরে নৈতিক শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া আপনারা বড় সামাজিক দায়িত্ব।
বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের সাবেক উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল জলিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মরণ করেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারন করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন