প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন ব্যাংকটির গ্রাহকরা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ইসলামী ব্যাংক ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গ্রাহকরা অবস্থান করে।
এদিন তারা তাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন, সেগুলো হচ্ছে-
১। ইসলামী ব্যাংকে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে পদত্যাগ করতে হবে।
২। সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।
৩। যারা লুটপাটের সাথে জড়িত, তাদের ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে থাকতে দেওয়া উচিত নয়।
৪। ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট থেকে ১৮ (ক) ধারা বাতিল করতে হবে।
৫। এস আলমের দখলকৃত মালিকানা ও দেশে থাকা তার সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয় করা প্রয়োজন।
৬। শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, এস আলম যাতে কোনো ব্যাংকেই ফিরতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
৭। ইসলামী ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক লুটকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
কর্মসূচির কারণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাদের পাশে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জলকামান ও সাজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা দাবী করছেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন, পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও দাবি রয়েছে, এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকাল থেকে ব্যাংকের গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দাবির পক্ষে বক্তব্য রাখেন।
সোমবার (১ জুন) একই দাবিতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, সেই কর্মসূচির সময় পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার ফলে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও তারা জানিয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য ছিল ভিন্ন।
আন্দোলনের কারণে সোমবার দিনেরবেলায় ইসলামী ব্যাংকের নির্ধারিত পর্ষদ সভা সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পর্ষদের পাঁচ সদস্য অংশ নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ভার্চুয়াল সভায় ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আলতাফ হোসাইন ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ২৪ মে চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি পালন করে আসছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার। সেই ধারাবাহিকতায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আজও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন