প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা মঁদ দাবি করছে, বারবেরা বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গোপনে বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বঘোষিত সোমালিল্যান্ডের বারবেরা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত বিমানবন্দরটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তরিত করার কার্যক্রম চলছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইসরাইল সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর প্রকল্পটির গতি বৃদ্ধি পায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে এডেন উপসাগর ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা।
লা মঁদের রিপোর্ট অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে বিমানবন্দরের রানওয়ের দক্ষিণ পাশে অন্তত তিনটি স্থানে বড় ধরনের খননকাজ চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে সেখানে অন্তত ১৮টি বড় পরিখা খোঁড়া হয়ে গেছে।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এগুলো ভূগর্ভস্থ গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার বা জ্বালানি ডিপো হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পরিখাগুলো প্রথমে কনটেইনার দিয়ে পূরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সামরিক বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটি জানায়, এসব স্থাপনা নির্মাণের দায়িত্ব নেয়া হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপর। ২০১৭ সালে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বারবেরা বিমানবন্দর সামরিক কাজে ব্যবহারের অধিকার পায় আমিরাত।
বিমানবন্দরের একজন কর্মীও নাম গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, আবুধাবি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে এই ঘাঁটি নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছে।
এদিকে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) ২৭ জানুয়ারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা উঁচু মাটির প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে ধারনা করা হচ্ছে যে, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, বর্তমানে উত্তর সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ডের বোসাসো বিমানবন্দরে আমিরাতের নিয়ন্ত্রণে থাকা সামরিক স্থাপনায় ২০২৫ সালের মার্চে ইসরায়েলের তৈরি এএল/এম-২০৯৪ রাডার মোতায়েন করা হয়েছে। বারবেরার উন্নয়নটি সেই কৌশলের ধারাবাহিকতা হতে পারে।
যদিও ইসরাইল এবং সোমালিল্যান্ড উভয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তথাপি উভয় পক্ষের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনটি দাবি করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমালিল্যান্ডের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণের জন্য গোপনে তেল আবিব সফর করেছেন এবং ইসরাইলি সামরিক প্রতিনিধিরা হারগেইসা ও বারবেরা সফর করেছেন।
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশমুখে অবস্থিত বারবেরা বিমানবন্দরটির রানওয়ে চার কিলোমিটার থেকে বেশি দীর্ঘ এবং এটি আফ্রিকার অন্যতম বড় রানওয়ে। এই বিমানবন্দরটি ১৯৭০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন নির্মাণ করে। ২০১৭ সালে আমিরাত এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রানওয়ে সংস্কার, সামরিক হ্যাঙ্গার ও নৌ-জেটি নির্মাণ করে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হচ্ছে, বর্তমানে বিমানবন্দরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সংযোগ সড়কও বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্ব আফ্রিকাভিত্তিক একটি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি করছে, ইসরাইলি সামরিক দল ইতোমধ্যে ঘাঁটি পরিদর্শন করেছে এবং এটি ভবিষ্যতে ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
এছাড়া মার্কিন আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম)-এর প্রতিনিধিরা নিয়মিত বারবেরা সফর করছেন বলেও জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর আফ্রিকম প্রধান জেনারেল ড্যাগভিন অ্যান্ডারসনকে বারবেরা বিমানবন্দরে দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই জিবুতির বিকল্প সামরিক ঘাঁটির খোঁজ করছে। কারণ জিবুতিতে মার্কিন ঘাঁটির কাছেই চীনের বিদেশে প্রথম সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত। পাশাপাশি হুথিদের হামলার আশঙ্কায় জিবুতি ইয়েমেনে মার্কিন হামলার জন্য নিজের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিতে অনিচ্ছুক। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় সোমালিল্যান্ড এ ধরনের সহযোগিতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন