প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে গলা কেটে হত্যা মামলায় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক মো. হৃদয় ব্যাপারী, যিনি মো. হৃদয় মিঞা ওরফে হৃদয় নামেও পরিচিত, তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।
এই রায় বুধবার সকালে ঢাকা শহরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহিরুল ইসলাম, যিনি কাইয়ুম নামেও পরিচিত, বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রায়ে প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এই রায়ের দ্বারা ভিকটিমের পরিবার ন্যায়বিচার পেতে পেরেছে। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ভিকটিমের ভাই মো. আল মঞ্জিল বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত করেন ডিবি গুলশান জোনের উপ-পরিদর্শক মো. রিপন উদ্দিন। তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ, আসামির স্বীকারোক্তি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। দেখা যায়, আসামি হৃদয় অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হারান। জুয়ার দেনা মেটাতে এবং স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন বিকেলে আফরোজাকে একা পেয়ে নিজ হাতেই চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির স্বীকারোক্তির মাধ্যমে মাটির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৯ ইঞ্চি লম্বা রক্তমাখা চাকু, লুণ্ঠিত ২২.০৪ গ্রাম স্বর্ণালংকার, রক্তমাখা টিস্যু পেপার এবং লুণ্ঠিত ৬০০ টাকাসহ ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করেন। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. কে এম মঈন উদ্দীনের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের ডিএনএ রিপোর্টেও আসামির অপরাধ উন্মোচিত হয়। এর পর আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
মামলার বিচার চলাকালে মোট ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ গঠনের পরে মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন হয়। বিচারক বলেন, বিশ্বস্ত কর্মচারী হয়েও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একজন নিরপরাধ নারীকে অত্যন্ত বর্বরোচিত ও ঠান্ডা মাথায় জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি বিরল থেকে বিরলতম অপরাধ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন