প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৬ জুন, ফ্রান্সে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। ছবি: রয়টার্স।
দীর্ঘ কয়েক মাসের ধৈর্যশীল এবং পুঞ্জীভূত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গত বুধবার ফ্রান্সে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সব ফ্রন্টের লড়াই স্থগিতের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। চুক্তির পেছনে মূল মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বহুপক্ষীয় এই মধ্যস্থতায় প্রথম থেকেই ধারাবাহিক এবং স্পষ্ট নেতৃত্ব দিয়েছে পাকিস্তান। তারা তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিশরকে নিয়ে একটি কূটনৈতিক ফ্রন্ট গঠন করেছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান মূলত কাতারের অনুসৃত নীতিই ব্যবহার করেছে। কাতার দুই পক্ষের সঙ্গেই তার অনন্য সম্পর্ক এবং যোগাযোগের মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে কার্যকর সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেছে।
গত এক সপ্তাহে কাতারি প্রতিনিধিদল দুইবার তেহরান সফর করেছে। সেখানে গত রোববার ১৭ ঘণ্টার তীব্র আলোচনার পর এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। চলতি সপ্তাহে দোহায় পরবর্তী আলোচনার সূচি রয়েছে। বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হলেও এই চুক্তিতে তাদের সম্পৃক্ততা অনেক পর্যবেক্ষককে অবাক করেছে।
বর্তমান যুদ্ধের আগে, ওমান ও কাতার যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার আয়োজন করেছিল। তখন ওমান সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করলেও কাতার মূলত দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় দেশগুলো অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই সংঘাতের শিকার হয়ে যায়। কাতার এতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইরানি হামলায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায়, যা পুনরুদ্ধারে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগবে।
দিনের পর দিন ইরানি হামলার মুখে ২৪ মার্চ কাতার আনুষ্ঠানিকভাবে এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। তারা সেই সময়ে নিজের সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
গত ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সাম্প্রতিক সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হলে কাতার আবারও আলোচনায় ফিরে আসে। মে মাসের শেষের দিকে একটি ইরানি প্রতিনিধিদল দোহা সফর করে। পাকিস্তান মূল প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিতে থাকলেও কাতার আবারো দুই পক্ষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের (শাটল ডিপ্লোম্যাসি) কাজ শুরু করে।
নিজেদের সম্পদ ধ্বংস হওয়ার পরও কাতারের আলোচনায় ফিরে আসা সমালোচকদের জন্য একটি বড় বার্তা উচ্চারণ করে। অনেকে চান কাতার ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে সামরিক পদক্ষেপ নিক। কিন্তু মাসব্যাপী যুদ্ধের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কোনো চূড়ান্ত ক্ষতির কারণ হতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে ছোট উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক শক্তির কোনো কার্যকারিতা হতেও পারে না।
কাতারের জন্য সবসময় কূটনীতি ও মধ্যস্থতা ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। যুদ্ধের বিশাল খরচ এবং মানবিক বিপর্যয়ের তুলনায় কূটনৈতিক পদক্ষেপের খরচ অত্যন্ত সামান্য। কাতার যদি ইরানের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করত, তবে তারা মধ্যস্থতাকারীর যোগ্যতা হারাত। একটি ছোট রাষ্ট্র হিসেবে কাতারের জন্য এই কূটনীতি কোনো অসহায়ত্ব নয়, বরং এটি ছিল একটি বাস্তবসম্মত এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন