প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালাক্কা প্রণালীকে উপেক্ষা করে নতুন বাণিজ্য মানচিত্র আঁকতে শুরু করেছে চীন। একক একটি নৌপথের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করার লক্ষ্যে বেইজিং একের পর এক অর্থনৈতিক করিডর, বন্দর, রেলপথ এবং পাইপলাইনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধু একটি বাণিজ্য কৌশল, নাকি ভবিষ্যতের ভূরাজনৈতিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতির লক্ষণ?
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হচ্ছে মালাক্কা প্রণালী। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকা থেকে পূর্ব এশিয়ায় যাওয়া বিপুল পরিমাণ তেল, গ্যাস এবং পণ্য এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। চীনের আমদানি করা জ্বালানির একটি বড় অংশও এই পথের উপর নির্ভরশীল।
কিন্তু সংকীর্ণ এই জলপথে যুদ্ধ, অবরোধ অথবা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিলে, এর ফলে চীনের শিল্প উৎপাদন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং রফতানিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এই আশঙ্কাকে বেইজিং বহু বছর ধরে ‘মালাক্কা ডিলেমা’ হিসাবে বিবেচনা করে আসছে।
এই সমস্ত ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে চীনের নতুন কৌশল ‘করিডর-হেজিং’। এর মানে হচ্ছে, সমুদ্রপথের পাশাপাশি একাধিক বিকল্প সংযোগ গড়ে তোলা, যাতে একটি পথ বন্ধ হলেও পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা থেমে না যায়। মিয়ানমারের কিয়াউকফিউ বন্দর থেকে ইউনান পর্যন্ত তেল-গ্যাস পাইপলাইন, পাকিস্তানের গওয়াদর বন্দর থেকে শিনজিয়াং পর্যন্ত চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর এবং মধ্য এশিয়া হয়ে ইউরোপে রেল সংযোগ—সবই এই কৌশলের অন্তর্ভুক্ত।
যেমন বিনিয়োগকারী ঝুঁকি কমাতে সব অর্থ একটি জায়গায় রাখেন না, তেমনই চীনও এখন সব বাণিজ্য এবং জ্বালানি একটিমাত্র পথে নির্ভরশীল রাখতে চাইছে না।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনকে বেশি মানুষ পছন্দ করে: জরিপ
তবে বিষয়টি কেবল অর্থনীতির সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভূরাজনীতিও। তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা, দক্ষিণ চীন সাগরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের শক্তিশালী নৌ উপস্থিতি—সব কিছু মিলিয়ে বেইজিং এমন একটি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাইছে, যা সংকটের সময়েও সচল থাকবে। গত এক দশকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বন্দরের, রেলপথের, সড়কের এবং জ্বালানি অবকাঠামোর নির্মাণে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন।
এই কৌশলের মাধ্যমে লাভবান হতে পারে পাকিস্তান, মিয়ানমার, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ। এর ফলে ভারত মহাসাগর এবং ইউরেশিয়ায় চীনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং মালাক্কাকেন্দ্রিক কৌশলগত বাস্তবতাও নতুন করে মূল্যায়নের মুখোমুখি হবে।
প্রশ্নটি হলো, এই নতুন কৌশলে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়? বিশ্লেষকরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বাংলাদেশের গুরুত্বও বাড়ছে। এক সময় ভারতকে নিয়ে প্রস্তাবিত বিসিআইএম করিডর রাজনৈতিক কারণে থমকে গেলেও, এখন বেইজিং বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডরের ধারণা সামনে নিয়ে আসছে। এর লক্ষ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনকে দ্রুত বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন