প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ঝাউবাগানকেন্দ্রিক ছিনতাইয়ের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সোমবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সি-গাল পয়েন্টের ঝাউবাগানে এক পর্যটককে ছুরি দেখিয়ে মারধরের পর মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।
পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য স্থানীয় ফটোগ্রাফার ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সহায়তায় পর্যটকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং মোটরসাইকেলটিও রক্ষা করা হয়েছে। এ ঘটনার মধ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ একটি সদস্য মহিলা অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা সম্পর্কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি করেছেন পর্যটকরা।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ঝাউবাগান ও সি-গাল পয়েন্টে বেড়াতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে আসা পর্যটকদের একটি দল। মোটরসাইকেল পার্কিং করে ছবি তুলতে গিয়ে একটি ছিনতাই চক্র সেটি নিজেদের বলে দাবি করে এবং ছিনতাইয়ের প্রচেষ্টা চালায়।
সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক রাহাত বলেন, ‘আমরা ১১ জন প্রায় ১৬ ঘণ্টা ৬টি মোটরসাইকেল চালিয়ে সকালে কক্সবাজারে এসেছি। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর খাবার খেতে যাই। ১টি মোটরসাইকেল ঝাউবাগানে পার্কিংয়ে রেখে ছবি তুলছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি এসে মোটরসাইকেলটি তার বলে দাবি করে। পরে আরও কয়েকজন সেখানে জড়ো হয়ে আমাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে এবং মোটরসাইকেলটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা তাদের জানাই, মোটরসাইকেলের সব বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্যুরিস্ট পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে কাগজপত্র যাচাই করে মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করে। পুলিশের সহযোগিতা না পেলে আমাদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হতো। এমনকি আমার বন্ধু সাব্বিরকে মারধরও করে। ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতিও প্রদর্শন করে। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ফটোগ্রাফারও আমাদের সহযোগিতা করেছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশ দ্রুত সাড়া দেওয়ায় আমরা নিরাপদ বোধ করেছি। তাদের কারণে আমরা রক্ষা পেলাম।’
পর্যটক সাব্বির বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে কোনো পর্যটক এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, সেজন্য সৈকত এলাকায় আরও জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।’
এদিকে ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ফটোগ্রাফারও পর্যটকদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। তাদের মতে, সৈকতের কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি অসাধু চক্র পর্যটক, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানির চেষ্টা করে আসছে।
বিশেষ করে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে জলতরঙ্গ পর্যন্ত ঝাউবাগান এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, পর্যটকদের নিরাপদ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এসব এলাকায় নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি জরুরি।
ফটোগ্রাফার জয়নাল বলেন, ‘আমি প্রায় ২০ বছর ধরে সি-গাল পয়েন্ট এলাকায় ফটোগ্রাফির কাজ করছি। এখানে কিছু ছিন্নমূল যুবক রয়েছে, যারা বিভিন্ন সময় পর্যটক, ফটোগ্রাফার ও হকারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। ঘটনার সময় টুরিস্ট পুলিশ দ্রুত উপস্থিত হওয়ায় অভিযুক্ত একজন পালিয়ে যায়, তবে একজন নারীকে আটক করা হয়। সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে জলতরঙ্গ পর্যন্ত ঝাউবাগান এলাকায় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এতে পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, মারধর থেকে পর্যটকদের উদ্ধারের পাশাপাশি রক্ষা করা হয়েছে মোটরসাইকেলও। একই সঙ্গে আটক করা হয়েছে চক্রের এক নারী সদস্যকে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক মো. পারভেজ আহমেদ বলেন, সিলেট থেকে ১০-১১ জন পর্যটক মোটরসাইকেল নিয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে আসেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে দুজন খাবার খেতে গেলে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি নিজেদের বলে দাবি করে তা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি পর্যটকরা ট্যুরিস্ট পুলিশকে জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে মালিকানা নিশ্চিত করে। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের থানায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের সমাগম ঘটে। পর্যটন নগরীর সুনাম ধরে রাখতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লেষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন