প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। অনেককে মেঝেতে কিংবা অতিরিক্ত বেডে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। ভর্তি রোগীদের বড় একটি অংশই শিশু ও বয়স্ক। মৌসুমি ঠান্ডাজনিত রোগের পাশাপাশি কিছু রোগীর মধ্যে চর্মরোগের উপসর্গও দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকরা রোগীদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, তরলজাতীয় খাবার ও ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। তবে অনুমোদিত ১৬৪টি পদের বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩৫ জন। দীর্ঘদিন ধরে ২৯টি পদ শূন্য থাকায় বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে, যা সেবাদানেও প্রভাব ফেলছে।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু নাভানা আহম্মেদকে নিয়ে কালকিনি উপজেলার কালিগঞ্জ থেকে হাসপাতালে আসেন তার মা রাবিয়া বেগম। তিনি বলেন, “হঠাৎ করেই আমার ছেলের পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এরপর বমি ও পেটে ব্যথা দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন চিকিৎসা চলছে।”
একই ওয়ার্ডে ভর্তি শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার ভাষ্য, “সকালে খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই বমি ও ঘন ঘন পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই।”
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তন ও টানা বৃষ্টির কারণে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে আসা সব রোগীকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। কেউ আতঙ্কিত না হয়ে রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অবহেলা করা উচিত নয়।”
চিকিৎসকদের মতে, বর্ষাকালে বিশুদ্ধ পানি পান, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ডায়রিয়াসহ অধিকাংশ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন