প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা ও টানা তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে গত রবিবার ও সোমবার দুই দিনে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনবহুল বন্দরনগরী বোর্দোতে রবিবার ও সোমবার তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা বোর্দোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনও সেখানে তাপমাত্রা এতটা বাড়েনি।
প্রচণ্ড গরমের কারণে বোর্দোতে তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। এই তিনজনের বয়স ৮০ থেকে ৯৫ বছরের মধ্যে। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কার্পেন্ত্রাস জেলায় একটি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই বছর ও চার বছর বয়সী দুই শিশু।
বাকি ১৩ জনের মৃত্যু পানিতে ডুবে ঘটেছে। তীব্র দাবদাহ থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে অনেক মানুষ নদী, হ্রদ, সমুদ্র ও অন্যান্য জলাশয়ে দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে।
ফ্রান্সের বেসামরিক নিরাপত্তা সেবা বিভাগের মুখপাত্র জেরোম বওল্যাঙ্গার রয়টার্সকে বলেন, মানুষকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যেন তারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থাকা জলাশয়গুলোতেই সাঁতার কাটেন।
অস্বাভাবিক গরমের প্রভাবে দেশটির স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এবারের জুন মাসে শুধুমাত্র ফ্রান্স নয়, বরং প্রায় পুরো ইউরোপই তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে আছে। স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় স্যান সেবাস্তিয়ান ঐতিহ্যগতভাবে শীতল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে সাধারণত জুন মাসে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্পেনের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুন স্যান সেবাস্তিয়ানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
রেকর্ড গরমে ভুগছে যুক্তরাজ্যও। দেশটিতে জুন মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালে হয়েছিল, তখন পারদ ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। অথচ চলতি জুন মাসের গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে দেখা গেছে।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস রয়টার্সকে বলেন, ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের পেছনে একটি বিশেষ আবহাওয়াগত পরিস্থিতি কাজ করছে, যাকে ‘ওমেগা ব্লক’ বলা হয়। এ অবস্থায় বিস্তীর্ণ এলাকার মাঝখানে উষ্ণ বায়ুর স্ফীতি তৈরি হয় এবং দুই পাশে অবস্থান করে অপেক্ষাকৃত শীতল বায়ু।
তিনি জানান, বর্তমানে যে ‘ওমেগা ব্লক’ সক্রিয় রয়েছে, তা উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা অঞ্চল থেকে উষ্ণ বায়ু নিয়ে আসছে। এর ফলে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহতেও পরিবর্তন দেখানো যাচ্ছে। যেহেতু এটি খুব ধীর গতিতে অগ্রসর হচ্ছে, ফলে স্বস্তিদায়ক বাতাসও পাওয়া যাচ্ছে না।
ক্লেয়ার বার্নস আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ এবং ঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে, যা একই সাথে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
সূত্র : রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন