প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নেতৃবৃন্দ উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে এই আহ্বান করেন। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নির্বাচিত সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব পাস করা, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী আলবদর কমান্ডার, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এটিএম আজহারকে অন্তর্বর্তী সরকার বেকসুর খালাস দিয়েছে।
এগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন তারা।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন), শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ সম্পন্ন হওয়ার পর এসব কথা তারা বলেন। সকালে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
এ সময় বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য ও ঢাকা নগর কমিটির নেতা নাসির উদ্দীন প্রিন্স, রুখশানা আফরোজ আশা, আনোয়ারুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন তাজু, ইলিয়াস হাসান ইলু সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, স্বাধীনতার পরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত ছিল। কারণ গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হলে মুক্তিযুদ্ধের নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হয় না, কিন্তু ক্ষমতাসীন শাসকেরা তা করেনি। বরং তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে ’৭১-এর ঘাতক যুদ্ধাপরাধীরা শুধু টিকে থাকেনি, পত্র পল্লবে বিকশিত হয়ে মহীরুহ রূপ ধারণ করেছে।
যার কারণে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও শহীদ জননী জাহানারা ইমাম জীবিত অবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক রয়েছে।
বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে কতিপয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার পরও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, বাহিনী গঠন করে এবং সরাসরি হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বরং শাসক শ্রেণির দুই বৃহৎ দল রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্ম ব্যবহারে প্রতিযোগিতা করছে এবং স্বাধীনতাবিরোধী দলকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া দলগুলো পালাক্রমে দেশ পরিচালনা করছে, তবে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে কাজ করছে বলেও বলেন বজলুর রশীদ ফিরোজ।
তিনি বলেন, গত ২০২৪ সালের জুলাই-আগাস্টে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আস্ফালন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কথিত তৌহিদী জনতার নামে নারীদের পোশাক নিয়ে মোরাল পুলিশিং এবং ধর্মীয় ও জাতীগত সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বেড়ে গিয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, কথিত ধর্ম অবমাননার নামে ধর্মীয় ও জাতীগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণipেশার হাজার হাজার মানুষ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। মব সন্ত্রাসের আতঙ্ক নির্বাচনের পরে এখনো চলছে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দেশের শাসন ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত-দুর্বৃত্তায়িত আদর্শহীন বুর্জোয়া রাজনীতির হাতে রয়েছে। এভাবে দেশ চরম অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দুর্দশার জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং স্বাধীনতাবিরোধী গণহত্যাকারী দলের বিচার দাবী করেন বজলুর রশীদ ফিরোজ। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে জোরদার করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন