প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের টিকেট ক্রয়ের পর শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ায় স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে। সেকেন্ডারি মার্কেটপ্লেস বা টিকেট পুনর্বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সমর্থকরা খেলা না দেখেই দেশে ফিরছেন। বিশেষ করে ‘স্টাবহাব’ নামক জনপ্রিয় টিকেট বিক্রয়কারী ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের আগুন লেগেছে। ভুক্তভোগী দর্শকরা এটি টিকেট ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে এবারের বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবং এ নিয়েই শুরু হয়েছে টিকেট নিয়ে চরম অরাজকতা। ডালাসের বাসিন্দা সের্হিও এনরিকে আলভারাদো মোনতালভো, তার বাবাকে নিয়ে লিওনেল মেসির খেলা দেখানোর উদ্দেশ্যে স্টাবহাব থেকে ১৭০০ ডলারে আর্জেন্টিনার ম্যাচের টিকেট কিনেছিলেন। মেক্সিকো থেকে বাবা-মাকে উড়িয়ে আনা, হোটেল ও যাতায়াত বাবদ তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০০০ ডলার। কিন্তু যাত্রার ঠিক আগের দিন স্টাবহাব তাকে জানায় যে, বিক্রেতা টিকেট সরবরাহ করতে পারছে না। টিকেটের উচ্চ মূল্যের অজুহাত তুলে তারা বিকল্প টিকেট দিতেও রাজি হয়নি। ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে বারবার যোগাযোগ করেও শেষমেষ কিছুই করতে পারেননি মোনতালভো।
বোস্টনের ইবেন পিংরের অভিজ্ঞতা একই রকম নির্মম। তার স্ত্রী ২৮০০ ডলার দিয়ে স্কটল্যান্ড বনাম হাইতি ম্যাচের টিকেট কিনেছিলেন ১১ বছর বয়সী ছেলেটিকে চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ম্যাচের দিন সেই টিকেট স্রেফ গায়েব হয়ে যায়, যার ফলস্বরূপ স্টেডিয়ামের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন যে, এই সংকটের মূল কারণ হলো ‘স্পেকুলেটিভ টিকেটিং’ বা ফাটকা ব্যবসা। অনেক অসাধু বিক্রেতা নিজের কাছে টিকেট না থাকা সত্ত্বেও টিকেট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। পরে, যখন টিকেটের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়, তখন তারা সাধারণ ক্রেতাদের টিকিট না দিয়ে, অধিক মুনাফার জন্য অন্য কোথাও তা চড়া দামে বিক্রি করে দেন। এর ফলে, সাধারণ ক্রেতারা টিকেটের মূল টাকা ফেরত পেলেও বিমান ভাড়া বা হোটেলের পিছনে নষ্ট হওয়া মোটা অঙ্কের টাকা আর ফেরত পান না।
এই চরম জালিয়াতির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জুলি রিকার মোগাল এবং রুবেন রেনতেরিয়া নামের দুই ফুটবল অনুরাগী স্টাবহাবের বিরুদ্ধে গণমামলা দায়ের করেছেন। আদালতে জমা দাখিল নথিতে তারা অভিযোগ করেছেন যে, টিকেট প্রদানের নাম করে হাজার হাজার দর্শকের কাছ থেকে দেদারলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রতারণার শিকার করেছেন। স্টাবহাবের এ কর্মকাণ্ডকে গ্রাহক সুরক্ষার ইতিহাসে ‘নতুন এক চরম বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়।
বিবদমান পরিস্থিতিতে দেখি এখন দায় চাপানোর খেলা শুরু হয়েছে। ফিফা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের বৈধ টিকেট তাদের অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় এবং তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে কেনা টিকেটের দায় তারা নেবে না। অন্যদিকে, স্টাবহাব দাবি করেছে যে, ফিফার নতুন টিকেট ট্রান্সফার অ্যাপটিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে টিকেট বাজারের বিশেষজ্ঞরা স্টাবহাবের এই অজুহাত সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। টিকেট টক নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্কট ফ্রিডম্যান জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে ৬০০-র বেশি লিখিত অভিযোগ সংগ্রহ করেছেন এবং এর জন্য সম্পূর্ণভাবে স্টাবহাবের ব্যর্থ কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন।
আইনজীবীরা বলছেন, স্টাবহাবের জটিল রিফান্ড বা ক্ষতিপূরণ নীতি সাধারণ মানুষকে ক্লান্ত ও নিরুৎসাহিত করার জন্য তৈরি করেছে, যাতে মানুষ একপর্যায়ে টাকা দাবি করা থেকে বিরত হয়। স্টাবহাবের পক্ষ থেকে তাদের ‘ফ্যানপ্রটেক্ট গ্যারান্টি’র কথা বলা হলেও হাজার হাজার ডলারের অ-ফেরতযোগ্য ভ্রমণ খরচ হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ফুটবল ভক্তদের ক্ষোভ কোনোভাবেই কমছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন