প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় সৃষ্ট ক্ষত দেখতে আসছেন। আগামী রবিবার (৯ আগস্ট) তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী সফর করবেন, যা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করার পর, পুনর্বাসন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে তিনি উত্তরের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে যাবেন। সেখানে তিনি হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর ফটিকছড়ি থেকে সড়ক পথে হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে (হাটহাজারী মাদরাসা) যাবেন।
সেখানে তিনি হেফাজতের সাবেক আমির মরহুম শাহ আহমদ শফির কবর জিয়ারত করবেন। এরপর জেলা পরিষদ বাংলোতে দুপুরের খাবার গ্রহণ করবেন। সবশেষে তিনি হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের শেষে চট্টগ্রামে দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক হবে রেডিসন ব্লুতে।
এ ব্যাপারে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুরের রহমান শামীম কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন।
এই সফরে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী এলাকায় পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের সামগ্রী বিতরণ করবেন। এছাড়া ফটিকছড়ি হাটহাজারী সফর করবেন। দুপুরের খাবারের পর চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর যেন রক্তের ধারাবাহিকতা! ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে মার্চে বেগম খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
এরপর একই মাসে ২৯ এপ্রিল শতাব্দির সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করেছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চল। বিধ্বস্ত চট্টগ্রামে ৮ মে ১৯৯১ বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামবাসীর পাশে ছুটে এসেছিলেন। চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং দ্বীপ উপজেলা সদ্বীপেও তিনি ছুটে গিয়েছিলেন।
জিয়ার পরিবার তথা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের জন্য সব সময় উদার ছিলেন। ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরে তাদের সন্তান হাল ধরেছেন। এই সফরটি তারেক রহমানের জন্য ভিন্ন। তিনি এখন রাষ্ট্র প্রধান এবং দলের প্রধান। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর থেকে বিশেষ ঘোষণা আশা করছেন।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় এবারের ভয়াবহ বন্যার পানি নেমে গেলেও তা দুর্ভোগের চিহ্ন রেখে গেছে। সরকারি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় এক হাজার ৪৫৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন খাতে। প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সুপারিশ করা হয়েছে।
বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের ছোট ছনুয়া-ছনুয়া বাজার সড়ক এখন কাদা, গর্ত আর ভাঙনে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছনুয়ার সেই সড়ক পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন