প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের পাঞ্জাব অংশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দুই পাকিস্তানি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে। এই ঘটনা ঘটেছে গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাঞ্জাবের তার্ন তারান জেলার রাজোকে সীমান্ত চৌকির নিকটে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বিএসএফ সূত্রের বরাতে জানায়, সীমান্তে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে বিএসএফের জওয়ানরা ওই দুই ব্যক্তিকে থামার জন্য একাধিকবার সতর্ক করেন। কিন্তু তারা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালান। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
তবে নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিএসএফ এবং পাঞ্জাব পুলিশ যৌথভাবে তাদের পরিচয় ও সীমান্ত পার হওয়ার কারণ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সঙ্গে বিএসএফের বৈঠক হওয়ার কথাও রয়েছে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় আরও একজন ব্যক্তি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। গুলির পর তিনি আহত অবস্থায় পাকিস্তানের দিকে ফিরে যান বলে বিএসএফ সূত্রের দাবি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতীয় নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, পাঞ্জাব সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচারে সীমান্তপারের চক্রগুলো ড্রোন ব্যবহার করছে। এ কারণে সন্দেহজনক অনুপ্রবেশের ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে নিহত দুই ব্যক্তির উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, পাঞ্জাবের সঙ্গে পাকিস্তানের ৫৫৩ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এটি রাজ্যের পাঠানকোট, গুরুদাসপুর, অমৃতসর, তার্ন তারান, ফিরোজপুর ও ফাজিলকা—এই ছয় জেলার মধ্য দিয়ে গেছে। সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় বিএসএফ নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালায়।
এদিকে পাকিস্তানি পক্ষের বক্তব্য ভারতীয় বর্ণনার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন না এবং কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। ফলে ঘটনাটি নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন