প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালী-স্বরূপকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কে অবস্থিত কাউখালী-রাজাপুর সীমান্তের সংযোগস্থল সন্ধ্যা নদীর শাখার ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ ভেলি ব্রিজের নিচে অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা চলায় এটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ব্রিজটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের নিচে গর্ত করে বালু মজুত, লোড-আনলোড ও ব্যবসা চালানো হচ্ছেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ১৯৯০-এর দশকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর শতাধিক মিটার দীর্ঘ এই ভেলি ব্রিজটি নির্মাণ করে। ব্রিজটি কাউখালী উপজেলার সঙ্গে পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল, খুলনা, ঢাকা, বেনাপোল, স্বরূপকাঠি ও বানারীপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ, মালবাহী ভারী যানবাহনসহ অসংখ্য যান চলাচল করে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে ব্রিজটি বর্তমানে নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ব্রিজের নিচের অংশে অবৈধভাবে বালুর ডিপো গড়ে তুলে ডেজারের মাধ্যমে ট্রাকে বালু লোড-আনলোড করা হচ্ছে। ব্রিজের ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে তীব্র কম্পন সৃষ্টি হয়, যা ব্রিজের স্থায়িত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি বলেও এলাকাবাসীরা মনে করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "ব্রিজের নিচে এভাবে গর্ত করে বালু সরিয়ে নেওয়ায় ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।" অভিযোগ রয়েছে, এলাকার প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ইট ও বালুর ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সরকারি জায়গা দখল করে এই ব্যবসা চললেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমাণ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আদায়ে বঞ্চিত হয়। এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ. এম. দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, "সরকারি সম্পদ রক্ষায় ব্রিজের নিচে অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।" অভিযোগের বিষয়ে বালু ব্যবসায়ী মাসুদ খান এনায়েত বলেন, "আমি সরকারের কাছ থেকে লিজ নেওয়া জায়গায় ব্যবসা করছি।" তবে ব্রিজের নিচের জায়গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিনা জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, "ব্রিজের নিচে ও দুই পাশের জায়গা সড়ক বিভাগের। আমি এখানে ব্যবসা করি, বিষয়টি পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন। তারা প্রায়ই এখানে আসেন।" কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, "বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন