প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভুটান, ভারত ও চীনের মাঝে অবস্থিত একটি দেশ, যার জনসংখ্যা আট লাখ এবং এটি হিমালয় পর্বতমালার কোলে অবস্থিত। দেশটি ক্রমবর্ধমান নিম্ন জন্মহার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তাই জনসংখ্যা বাড়াতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবারগুলোকে আরও বেশি সন্তান নিতে উৎসাহ দিতে নাগদ সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে ভুটান সরকার।
৪ জুন বৃহস্পতিবার, ভুটান সরকার একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের ৪ জুন বা তার পরে জন্ম নেয়া পরিবারের তৃতীয় এবং পরবর্তী সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার গুলট্রাম (প্রায় ১০৫ ডলার) নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে। শিশুর বয়স তিন বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা চালু থাকবে।
সরকার জানিয়েছে, ৪ জুনের আগে জন্ম নেয়া তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানরাও যদি এখনও তিন বছর বয়সী না হয় তবে তারা এই সুবিধার আওতায় আসবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব কেসাং ডেকি রায়টার্সকে বলেন, যে পরিবারে দ্বিতীয় সন্তানের পর যত সন্তানই হোক—তিন, চার, পাঁচ, ছয় বা সাত—এ সকল ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা কার্যকর হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভুটানে ২০১৫ সালে মোট জন্মের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ১, ২০২৪ সালে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৫৩-এ। অর্থাৎ, জন্মের সংখ্যা প্রায় ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সেই সময় মোট প্রজনন হার (প্রতি নারীর গড় সন্তান সংখ্যা) নেমে এসেছে প্রায় ২ দশমিক ১-এ, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর কাছাকাছি রয়েছে।
ভুটান সরকার জানিয়েছে, জনসংখ্যা কমে যাওয়া, বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিদেশে কাজের জন্য অভিবাসন দীর্ঘমেয়াদে ভুটানের শ্রমশক্তি, সামাজিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপরে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে, স্থলবেষ্টিত বৌদ্ধ রাষ্ট্রটিতে অর্থনৈতিক অসন্তোষের কারণে অনেক তরুণ ভুটানি উন্নত জীবনের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।
সরকার বলছে, নতুন এই নীতি মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু ও পরিবার কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুটানের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির নির্দেশ করে।
রয়টার্স সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী ভারতের সিকিম রাজ্য ২০২৩ সালে জন্মহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে নারীদের জন্য এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি, পুরুষদের জন্য এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং আইভিএফের মাধ্যমে সন্তান নিতে আগ্রহীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন