প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চালাতে ওমান ও ইরান একটি যৌথ প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সফরের সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানি প্রতিনিধিদল ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গেও বৈঠক করেন।
হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ওমান ও ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা প্রণালির নিজ নিজ আঞ্চলিক জলসীমার ওপর সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখার বিষয়েও জোর দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালির বিষয়গুলো নিয়ে উভয় দেশ আলোচনা করেছে এবং তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি যৌথ কর্মদলের মাধ্যমে পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই কর্মদল হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের প্রশাসনিক কাঠামো, প্রদেয় সামুদ্রিক সেবা, এবং সংশ্লিষ্ট ফি বা খরচ নির্ধারণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। ওমান ও ইরান আরও সম্মত হয়েছে যে, ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা উপসাগরীয় উপকূলীয় অন্যান্য দেশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে।
দুই দেশ জোর দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি সম্পর্কিত যেকোনো ব্যবস্থা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকারকে পুরোপুরি সম্মান করতে হবে। তারা হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত পথ হিসেবে বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।
ইসলামাবাদ সমঝোতার ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সেখানে প্রদেয় সামুদ্রিক সেবার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা হবে। এ প্রক্রিয়ায় উপসাগরীয় অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান করা হবে।
সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান ৬০ দিনের জন্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও টোলমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবিলম্বে পুনরায় শুরু হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত ও সামরিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কারণে ইরান আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মাইন অপসারণ (মাইন ক্লিয়ারিং) কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এর আগে গত রোববার কাতার ও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সমাপ্তি উপলক্ষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় বর্তমান পক্ষগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও লেবাননকে নিয়ে একটি 'ডি-কনফ্লিকশন সেল' গঠনে সম্মত হয়েছে বলে জানানো হয়। পাকিস্তান ও কাতার এই ব্যবস্থার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবে এবং লেবাননে সামরিক তৎপরতা বন্ধের শর্তগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।
গত ১৪ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয় যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তারা ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বাকি বিরোধগুলো সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা।
‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ নামে পরিচিত এই চুক্তিটি গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে এতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির আওতায় যুদ্ধের অবসান, বিশেষ করে লেবানন ইস্যুর সমাধান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন