প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘খেলার মাঠ ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা সরকার কর্তৃক একটি অবিচল প্রতিশ্রুতি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে দেশের খেলাধুলার মান ব্যাপক রূপে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া শিশুরা বর্তমানে খেলার মাঠে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার অধিকাংশ পার্ক ও মাঠ উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে দখলমুক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে আধুনিকায়ন কার্যক্রম অবিচ্ছিন্নভাবে চলমান রয়েছে।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের তারকা চিহ্নিত এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথাগুলো উল্লেখ করেন।
তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পার্ক ও খেলার মাঠসমূহে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন, সিসি টিভি লাগানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিএনসিসির মালিকানাধীন ৩৮টি পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান এখন দখলমুক্ত রয়েছে এবং সেগুলো সুপরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অতীতের মধ্যে ২০টি পার্ক, ৪টি খেলার মাঠ, ২টি শিশু পার্ক এবং ২টি ঈদগাহ মাঠ উন্নয়ন কার্যক্রম আবর্তিত হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও রাজউকসহ অন্যান্য সঙ্গী সংস্থার মালিকানাধীন অবশিষ্ট ১৫১টি পার্ক, খেলার মাঠ, শিশুপার্ক, ঈদগাহ মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন খেলার মাঠ বা পার্কসমূহের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অধিক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। এসব খেলার মাঠ ও পার্কসমূহের অবৈধ দখলদারদেরও উচ্ছেদ করা হয়েছে।’
বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন খেলার মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে ৩৫নং ওয়ার্ডস্থিত মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্থান পার্ক), মতিঝিল পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, ওসমানী উদ্যান, যাত্রাবাড়ী শিশু পার্ক, ইসলামবাগ বশির উদ্দিন পার্ক, শাহবাগ শিশু পার্ক, হাজী আব্দুল আলীম খেলার মাঠ, রসুলবাগ পার্ক খেলার মাঠ, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাসাবো খেলার মাঠ (শহীদ আলাউদ্দিন পার্ক), সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠ, দক্ষিণ গোড়ান সুলতান ভূঁইয়া ঝিলপাড় খেলার মাঠ, বাসাবো বালুর মাঠ, দক্ষিণ বাসাবো, গজমহল শিশু পার্ক, হাজারীবাগ পার্ক, আমলীগোলা খেলার মাঠ ইত্যাদির মতো উল্লেখযোগ্য স্থান রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অধিকারাধীন খুবই অল্প সংখ্যক খেলার মাঠ রয়েছে। তবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতায় কিছু খেলার মাঠ আছে। এসব মাঠের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি কর্পোরেশন কিছু অর্থ বরাদ্দ করেছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৮টি জোনে ৮টি খেলার মাঠ এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।’
এছাড়া ময়মনসিংহ, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের খেলার মাঠ ও পার্কগুলো দখলমুক্ত করে সেইগুলিকে খেলার উপযোগী ও পার্কের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান।
এর আগে বিকাল তিনটায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচির প্রথম ত্রিশ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ৭ জন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাব দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন