প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের পরিস্থিতির কারণে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদকে পুনরুদ্ধার করতে সরকার একটি বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের অর্থ উদ্ধার করার জন্য ৯টি আন্তর্জাতিক আইনগত প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদে বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী সংসদে উল্লেখ করেন, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে নিয়োগের প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। এই আইনগত প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশে থাকা অর্থ ও সম্পদ চিহ্নিত করতে এবং তা দেশে ফেরত আনতে ব্যাংকগুলোর জন্য আইনি সহায়তা প্রদান করবে।
এই কার্যক্রমের প্রথম ধাপে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ব্যবসায়ী এস আলম এবং শিল্প গ্রুপ বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন–সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলায় শুরু করা হয়েছে। পরে কার্যক্রমের পরিধি আরও প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি ও বিরোধী দলের বিভিন্ন সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি (এক্সিম ব্যাংক), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম ২০২৫’-এর আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এই রেজল্যুশনের আওতায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ বর্তমানে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, আমরা এই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করছি। এর পাশাপাশি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
এখনও যেসব ব্যাংক তারল্যসংকটে ভুগছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। প্রয়োজন হলে এসব ব্যাংকের জন্যও ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানালো অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর আওতায় সুরক্ষিত আমানতের সীমা পূর্ববর্তী ১ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রাহকদের অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে জরুরি তারল্য-সহায়তা প্রদান করেছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত জরুরি তারল্য-সহায়তা হিসেবে ব্যাংকগুলোকে ইতিমধ্যে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন