প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রাম এরই মধ্যে প্লাবিত হয়ে গেছে। লংগদু ও সদর উপজেলার মাগবান ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
পাহাড়ি ঢলে সড়ক, হাটবাজার, দোকানপাট, বিদ্যালয়, কলেজ, গবাদিপশুর খামার ও ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। অসংখ্য বসতঘরও পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানিবন্দি মানুষ বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, টানা বৃষ্টির ফলে রাঙামাটি শহর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২৫টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানিয়েছেন, গত পাঁচ দিনের টানা বর্ষণে সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৮টি, রাঙামাটি-ঘাগড়া ও কাপ্তাই-বান্দরবান সড়কের ৭টি, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ৩টি এবং রাজস্থলী উপজেলা ও বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, আপাতত পাহাড় ধসে পড়ে থাকা মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তবে দ্রুত স্থায়ী মেরামতের ব্যবস্থা না নিলে টানা বৃষ্টিতে সড়কের আরও ক্ষতি হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া, পাহাড় ধসে বিলাইছড়ি ও কাউখালী উপজেলায় বেশ কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাঙামাটি শহরের আশপাশের পাহাড়িদেরও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের গাউসপুর সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এর ওপর যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, জেলার ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এই পর্যন্ত ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চালু থাকবে। যারা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি, তাদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে এবং ঝুঁকি দেখা দিলে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন