প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হলিউডে দুই বিখ্যাত অভিনেতা ও নির্মাতা বেন অ্যাফ্লেক এবং কেসি অ্যাফ্লেকের মা ক্রিস্টোফার অ্যান অ্যাফ্লেক ৮৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের (প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার) সঙ্গে লড়াই করে গত ২ জুন তার নিজ বাসভবনে ঘুমন্ত অবস্থায় শান্তিপূর্ণভাবে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বস্টন গ্লোব’-এ শুক্রবার প্রকাশিত একটি শোকবার্তায় (ওবিচুয়ারি) উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি শেষ দিনগুলোতে পরিবারের সদস্য ও নাতি-নাতনিদের সান্নিধ্যে ছিলেন এবং প্রশান্তির সঙ্গে বিদায় নিয়েছেন। খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিনোদনজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দ্য হলিউড রিপোর্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ক্রিস্টোফার অ্যানের শরীরে প্রাণঘাতী অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়ে এবং চিকিৎসকরা জানান যে তার হাতে প্রচণ্ড কম সময় রয়েছে, মাত্র ছয় মাস। মারণব্যাধি শনাক্ত হওয়ার পর তিনি মৃত্যুর আগে নিজের নাতনির হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান নিজ চোখে দেখতে চেয়েছিলেন। এই অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি তা পূরণ করেন; গত ২০২৬ সালের ৩১ মে স্বজনদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে নাতনির ওই মাহেন্দ্রক্ষণ উপভোগ করেন এবং এর ঠিক দুদিন পরেই শায়িত হন শান্তির ঘুমে।
১৯৪২ সালে নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিস্টোফার অ্যান কেবল দুই সফল তারকার মাতা ছিলেন না, বরং তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী প্রথম দিকের র্যাডক্লিফ নারীদের মধ্যে অন্যতম। সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এই মানবতাবাদী নারী আশির দশকে ‘ফ্রিডম সামার’-এর অংশ হিসেবে মিসিসিপিতে নিরক্ষর মানুষদের বর্ণমালা শেখাতে সাহায্য করেছিলেন এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার ছিলেন। কর্মজীবনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পাবলিক স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যান ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং এরপর তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পক্ষে প্রচারণা চালানোসহ ফিলিস্তিনে ওয়াটার জাস্টিসের জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
হলিউডের শীর্ষ তারকাদের মধ্যে দুই ভাই বেন ও কেসি অ্যাফ্লেকের সফলতার পেছনে তাদের মায়ের অবদান ছিল অপরিসীম। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন স্বামী টিমোথি অ্যাফ্লেকের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর বেন এবং কেসি, যাদের জন্ম ১৯৭২ এবং ১৯৭৫ সালে respectively, একাই পরম স্নেহে বড় করেন অ্যান। শৈশব থেকেই নাট্যমঞ্চ ও শিল্পের প্রতি দুই ভাইয়ের ভালোবাসা তৈরির মূল কারণ ছিলেন তাদের মা। বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘গুড উইল হান্টিং’-এর চিত্রনাট্যের জন্য বেন অ্যাফ্লেক ১৯৯৮ সালে প্রথম অস্কার পুরস্কার জিতেছিলেন, এবং সেই সময় আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিতে তিনি নিজের মাকেই সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন।
মৃত্যুর সময় তিনি দুই ছেলে ছাড়াও পাঁচ নাতি-নাতনি রেখে গেছেন, কেসির সন্তান ইন্ডিয়ানা ও অ্যাটিকাস এবং বেনের তিন সন্তান ভায়োলেট, ফিন ও স্যামকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন