প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার হিসাবে পরিচিত স্পেনের লামিন ইয়ামাল। দুর্দান্ত ড্রিবলিং, গতি এবং অসাধারণ ফুটবল প্রতিভায় ইতোমধ্যেই কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন তিনি। তবে তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক সংগ্রামী মায়ের নীরব ত্যাগ, সীমাহীন ভালোবাসা এবং অদম্য সাহসের গল্প।
লামিন ইয়ামালের মা, শিলা এবানা, আফ্রিকার নিরক্ষীয় গিনির বাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি স্পেনে পাড়ি জমান। নতুন দেশে তাঁর জীবন সহজ ছিল না। সংসার চালাতে কখনো রেস্তোরাঁয় ওয়েট্রেস, আবার কখনো ফাস্টফুড রেস্তোরাঁয় কাজ করে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হয়েছে তাঁকে।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে মা হন শিলা। ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই জন্ম নেয় তার ছেলে লামিন ইয়ামাল নাসরাউই এবানা।
তবে জীবনের কঠিন সময় তখনও শেষ হয়নি। ইয়ামালের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ছেলে লামিনকে নিয়ে শিলা স্পেনের গ্রানোলার্সে আবার নতুন করে জীবন শুরু করেন। সীমিত আয়ের মধ্যে ছোট্ট একটি বাসায় বসবাস করলেও তিনি কখনো ছেলেকে অভাবের কষ্ট অনুভব করতে দেননি। নিজের সব কষ্টকে আড়াল করে সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি।
জীবিকার জন্য রেস্তোরাঁয় কাজ করার সময় শিলার পরিচয় হয় এক স্থানি ফুটবল ক্লাবের কোঅর্ডিনেটরের পরিবারের সঙ্গে। সেই পরিচয়ই লামিন ইয়ামালের ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রথম বড় সুযোগ এনে দেয়। পরবর্তীতে সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। সেখান থেকেই শুরু হয় বিশ্ব ফুটবলের নতুন এক তারকার উত্থান।
নিজের মায়ের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ইয়ামাল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমার মা কখনো আমাকে দারিদ্র্যের অন্ধকার দেখাননি। তিনি সবসময় জীবনের সুন্দর দিকটাই দেখিয়েছেন।"
আজ লামিন ইয়ামাল যখন মাঠে নিজের নৈপুণ্যে কোটি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করছেন, তখন তার সবচেয়ে বড় অর্জন ট্রফি নয়। মায়ের মুখের হাসি হয়ে উঠেছে তার সত্যিকারের সাফল্য। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, একজন মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা এবং সংগ্রামের ঋণ কোনো সাফল্য দিয়েই শোধ করা সম্ভব নয়।
সূত্র: টাউন এন্ড কান্ট্রি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন