০৪:১৩ এম
স্ট্রোক মানেই কি মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা বা অসহ্য ব্যথা? এই প্রচলিত ধারণাটি যে জীবনঘাতী হতে পারে, তা অনেকেই জানেন না। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই স্ট্রোক কোনো ধরনের ব্যথা ছাড়াই ঘটে। আর ব্যথার অনুপস্থিতির কারণেই রোগীরা লক্ষণগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বা সামান্য সমস্যা মনে করে উপেক্ষা করেন, যার ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে দেন, ব্যথা না হওয়াটাই স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফাঁদ। অনেকের ধারনা, ব্যথা নেই মানে বিপদ নেই, কিন্তু ব্যথাহীন স্ট্রোক দ্রুত পঙ্গুত্ব এমনকি মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ব্যথাহীন স্ট্রোকের ৫টি প্রধান সতর্ক সংকেত রয়েছে:
আরও পড়ুন: তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ দলে চমক, ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে কানাডাপ্রবাসী এলুমি
১. হঠাৎ অবশ বা দুর্বলতা
শরীরের যেকোনো এক পাশ—বিশেষ করে মুখ, হাত বা পা হঠাৎ অবশ হয়ে আসা। হাসতে গেলে যদি মুখের এক পাশ বেঁকে যায় বা হাত উপরে তুলে ধরে রাখতে কষ্ট হয়, তবে এটি স্ট্রোকের লক্ষণ。
২. কথাবার্তায় অসংলগ্নতা
হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, স্পষ্ট করে কথা বলতে না পারা কিংবা অন্যের সহজ কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।
আরও পড়ুন: রাতে যেসব রোগের উপসর্গ বেশি বাড়ে
৩. দৃষ্টিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন
হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, একটি জিনিসকে দুটি দেখা অথবা চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসা।
৪. ভারসাম্য ও সমন্বয়হীনতা
হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে গিয়ে টাল সামলাতে না পারা কিংবা শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।
আরও পড়ুন: খাল খননের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা : ত্রাণমন্ত্রী
৫. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ শরীর ভেঙে আসা অথবা হাত-পা নাড়াতে প্রচণ্ড কষ্ট হওয়া।
লক্ষণ চেনার জীবনদায়ী সূত্র: B.E. F.A.S.T.
চিকিৎসকরা স্ট্রোক শনাক্ত করার জন্য এই সহজ সূত্রটি মনে রাখার পরামর্শ দেনঃ
আরও পড়ুন: মিরপুর মডেল থানার অভিযানে ৩১ জনকে আটক
B (Balance): ভারসাম্য বা হাঁটাচলায় সমস্যা।
E (Eyes): দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।
F (Face): মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া বা বেঁকে যাওয়া।
A (Arm): এক হাতের দুর্বলতা বা অবশ ভাব।
আরও পড়ুন: ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেফতার ৪৯ জন
S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্টতা।
T (Time): এই লক্ষণগুলো দেখা মাত্রই সময় নষ্ট না করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকা বা হাসপাতালে নেওয়া।
দ্রুত চিকিৎসা কেন অপরিহার্য?
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কিছু স্ট্রোক (যেমন—বড় রক্তনালী বন্ধ হওয়া অথবা হেমারেজ) শুরুতে কোনো ব্যথা তৈরি করে না, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে তা জীবন কেড়ে নিতে পারে। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে জরুরি ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-শি বৈঠক শেষে ধোঁয়াশা: কে কার কথা মানলেন, কী হলো পর্দার আড়ালে?
বিশেষজ্ঞের শেষ বার্তা হল, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে 'সময়ই মস্তিষ্ক'। ব্যথা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। শরীর যদি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ দ্রুত নিন। আপনার সচেতনতাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন