ঢাকা শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ইং ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

স্ট্রোকের আগে কোনো ব্যথা নাও থাকতে পারে, জেনে নিন ৫ সতর্ক সংকেত


স্ট্রোকের আগে কোনো ব্যথা নাও থাকতে পারে, জেনে নিন ৫ সতর্ক সংকেত

স্ট্রোক মানেই কি মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা বা অসহ্য ব্যথা? এই প্রচলিত ধারণাটি যে জীবনঘাতী হতে পারে, তা অনেকেই জানেন না। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই স্ট্রোক কোনো ধরনের ব্যথা ছাড়াই ঘটে। আর ব্যথার অনুপস্থিতির কারণেই রোগীরা লক্ষণগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বা সামান্য সমস্যা মনে করে উপেক্ষা করেন, যার ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে দেন, ব্যথা না হওয়াটাই স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফাঁদ। অনেকের ধারনা, ব্যথা নেই মানে বিপদ নেই, কিন্তু ব্যথাহীন স্ট্রোক দ্রুত পঙ্গুত্ব এমনকি মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যথাহীন স্ট্রোকের ৫টি প্রধান সতর্ক সংকেত রয়েছে:

আরও পড়ুন: তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ দলে চমক, ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে কানাডাপ্রবাসী এলুমি

১. হঠাৎ অবশ বা দুর্বলতা

শরীরের যেকোনো এক পাশ—বিশেষ করে মুখ, হাত বা পা হঠাৎ অবশ হয়ে আসা। হাসতে গেলে যদি মুখের এক পাশ বেঁকে যায় বা হাত উপরে তুলে ধরে রাখতে কষ্ট হয়, তবে এটি স্ট্রোকের লক্ষণ。

২. কথাবার্তায় অসংলগ্নতা

হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, স্পষ্ট করে কথা বলতে না পারা কিংবা অন্যের সহজ কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।

আরও পড়ুন: রাতে যেসব রোগের উপসর্গ বেশি বাড়ে

৩. দৃষ্টিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন

হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, একটি জিনিসকে দুটি দেখা অথবা চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসা।

৪. ভারসাম্য ও সমন্বয়হীনতা

হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে গিয়ে টাল সামলাতে না পারা কিংবা শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।

আরও পড়ুন: খাল খননের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা : ত্রাণমন্ত্রী

৫. অস্বাভাবিক ক্লান্তি

কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ শরীর ভেঙে আসা অথবা হাত-পা নাড়াতে প্রচণ্ড কষ্ট হওয়া।

লক্ষণ চেনার জীবনদায়ী সূত্র: B.E. F.A.S.T.

চিকিৎসকরা স্ট্রোক শনাক্ত করার জন্য এই সহজ সূত্রটি মনে রাখার পরামর্শ দেনঃ

আরও পড়ুন: মিরপুর মডেল থানার অভিযানে ৩১ জনকে আটক

B (Balance): ভারসাম্য বা হাঁটাচলায় সমস্যা।

E (Eyes): দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।

F (Face): মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া বা বেঁকে যাওয়া।

A (Arm): এক হাতের দুর্বলতা বা অবশ ভাব।

আরও পড়ুন: ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেফতার ৪৯ জন

S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্টতা।

T (Time): এই লক্ষণগুলো দেখা মাত্রই সময় নষ্ট না করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকা বা হাসপাতালে নেওয়া।

দ্রুত চিকিৎসা কেন অপরিহার্য?

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কিছু স্ট্রোক (যেমন—বড় রক্তনালী বন্ধ হওয়া অথবা হেমারেজ) শুরুতে কোনো ব্যথা তৈরি করে না, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে তা জীবন কেড়ে নিতে পারে। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে জরুরি ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প-শি বৈঠক শেষে ধোঁয়াশা: কে কার কথা মানলেন, কী হলো পর্দার আড়ালে?

বিশেষজ্ঞের শেষ বার্তা হল, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে 'সময়ই মস্তিষ্ক'। ব্যথা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। শরীর যদি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ দ্রুত নিন। আপনার সচেতনতাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না: ড. মাসুদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ এম


পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না: ড. মাসুদ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাউফল উপজেলা জামায়াত আয়োজিত বাংলাবাজার কার্যালয়ে হিন্দু নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, "আমরা আগামীতে আপনাদের বুদ্ধি-পরামর্শ নিয়ে বাউফলকে এগিয়ে নিতে চাই। আপনারা জানেন, টানা সংসদ অধিবেশন চলায় আমি আপনাদের বড় দুটো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারিনি। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।"

তিনি বলেন, "আমরা যেটা বলি, সেটা করার চেষ্টা করি—এটা আমাদের ঈমানের অংশ, আমাদের ইবাদতের অংশ। আমরা সালাত আদায় করছি, এটি যেমন আমাদের স্রষ্টার পক্ষ থেকে নির্দেশ, তেমনি আমরা যা বলব, সেটাই করব।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্জন করেছি—রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদক কারবারিদের থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার যে প্রথা, সেটি আমরা ইতোমধ্যে নির্মূল করতে পেরেছি। যেহেতু আমরা এটা পারছি, বাকিগুলোও পারব ইনশাআল্লাহ।"

তিনি বলেন, "মাদক একটি ক্যান্সারের মতো মহামারি। ১২ তারিখের পর থেকে আপনাদের সহযোগিতায় এই মহামারির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিতে পেরেছি।"

তিনি আরও বলেন, "একসময় প্রশাসনের লোকজন বলত—স্যার, ধরব কীভাবে? ধরার আগেই তো তাদের পক্ষে তদবির করার জন্য লোক থানায় এসে বসে থাকে। এখন অন্তত এই পরিস্থিতি নেই। তারা স্বীকার করছে যে, আমরা সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি এবং সময় পেলে মাদক নির্মূল সম্ভব।"

চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, "জেলার দুটি আইনশৃঙ্খলা সভায় আমি স্পষ্টভাবে বলেছি—প্রথমত মাদক নির্মূলে সকল কমিউনিটির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, দ্বিতীয়ত চুরি দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতোমধ্যে আপনারা দেখছেন, কীভাবে চোরেরা ধরা পড়ছে। এখন আমরা চোরের সিন্ডিকেট ভাঙার কাজ করছি।"

তিনি বলেন, "মাদক ও চুরি দমনে কিছু আইনগত জটিলতা রয়েছে। এসব বিষয় জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।"

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, "পৃথিবীর সব অপরাধ একবারে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তা হলে আইন-আদালতের প্রয়োজনই থাকত না। তবে অপরাধকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।"

তিনি বলেন, "আমি জেলখানায় দেখেছি—একজন ব্যক্তি ১২ থেকে ১৪ বার কারাগারে এসেছে। জিজ্ঞেস করলে সে বলে, চুরির অভ্যাস ছাড়তে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে এটি পারিবারিকভাবে গড়ে ওঠে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে চুরি দমনে জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।"

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে নির্বাচন হয়েছে—এ নিয়ে কেউ কেউ আলোচনা করছেন। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই। একটি দেশের নির্বাচন সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর ফলে আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোনো পরিবর্তন হবে না। আমরা সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।"

তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জি বিজয়ী হয়েছেন কি না—এ নিয়ে সেখানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এর কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না।"

এমপি বলেন, "আমরা আমাদের মতো করে ভালো থাকার পথ নির্ধারণ করব। এই রাষ্ট্র আমাদের, এই মাটিও আমাদের। আমাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারলে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।"

উপস্থিত হিন্দু নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আগামী পাঁচ বছর আমি আপনাদের পরামর্শ নিয়ে চলতে চাই। শুধু পরামর্শ নয়, প্রয়োজনে আমাকে শাসনও করবেন। ভুল হলে তা ধরিয়ে দেবেন—এটাই আমি প্রত্যাশা করি।"

তিনি বলেন, "আমি এমন একটি নীতিতে বিশ্বাস করি—যে আমাকে তোষামোদ করে, তার বিষয়ে সতর্ক থাকি; আর যে আমাকে সমালোচনা করে ও সত্য কথা বলে, তার মাধ্যমেই উন্নতির সুযোগ তৈরি হয়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাংক ঋণের সুদহার কমাতে বাধা সৃষ্টি করছে তিনটি বিষয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ এম


ব্যাংক ঋণের সুদহার কমাতে বাধা সৃষ্টি করছে তিনটি বিষয়

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন তিনটি বাধার মুখোমুখি হচ্ছে ঋণের সুদের হার কমাতে। এই বাধাগুলো হলো চড়া মূল্যস্ফীতির চাপ, আমদানি বেড়ে গিয়ে ডলারের উপর চাপ উৎপন্ন হওয়ার শঙ্কা এবং সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ। এই তিনটি কারণে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। একটি বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে অন্যটি অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। ফলে, যদিও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তবুও ঋণের উচ্চ সুদের হার আপাতত বিদ্যমান রাখা হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার নিম্নমুখী করার নীতি গ্রহণ করেছে।

দেশের সার্বিক অর্থনীতির হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সুদের হারের এ চিত্র। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে বৈশ্বিক মন্দার সূচনা হয়। এর ফলে ওই বছরের আগস্টে দেশের মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশ অতিক্রম করে। পরে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। যদিও বর্তমানে এ হার কিছুটা কমে হয়েছে, তবে তা ৯ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এ হার আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই অবস্থায় যদি ঋণের সুদের হার কমানো হয়, তাহলে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাবে। এতে চাহিদা বেড়ে যাবে এবং মূল্যস্ফীতিতে চাপ আবারও বাড়িয়ে দিবে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সুদের হার কমানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। তবে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে গঠিত তহবিলগুলোর সুদের হার কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া মুদ্রাবাজারের ভিত্তিসূত্রে সুদের হারের তথ্য প্রকাশ করার মাধ্যমে কলমানির সুদের হার প্রায় আড়াই শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনার খরচ কিছুটা হ্রাস পাবে, যার ফলে ঋণের সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী না হয়ে নিম্নমুখী হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, যদি এখন ঋণের সুদের হার কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে বাজারে ঋণের জোগান বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। এই কারণে ডলারের উপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের কারণে রিজার্ভের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় আন্তরে থাকলেও রিজার্ভ এখন স্থিতিশীল রয়েছে। আসন্ন সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেনা পরিশোধের মাধ্যমে রিজার্ভ পুনরায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসবে।

এই অবস্থার মধ্যে সরকারের রাজস্ব আয় কম হওয়ার কারণে সরকারকে ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে, ব্যাংক থেকে বেশি মাত্রায় ঋণ নেওয়ার কারণে সরকারি ঋণের উপকরণ ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার আবারো বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

এদিকে, নীতি সুদের হার কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত কয়েক বছর ধরে ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। ঋণের সুদের হার বর্তমানে ১০ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। গড় সুদের হার ১২ শতাংশের বেশি। আগে ঋণের সুদের হার ছিল ৮ থেকে ৯ শতাংশ, কিন্তু ২০২২ সালের আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার পর ঋণের সুদের হারও বৃদ্ধি পায়। যদিও গত কয়েক বছরে ঋণের সুদের হার বেড়েছে এবং বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, মূল্যস্ফীতির হার কমেনি। বরং বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে এ হার আবারও বাড়া আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একদিনে ২৫ টাকা বেড়ে ডিমের ডজন ১৬০ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ এম


একদিনে ২৫ টাকা বেড়ে ডিমের ডজন ১৬০ টাকা

ডিমের বাজারে হঠাৎ করেই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। একদিনের ব্যবধানে লাল ফার্মের ডিমের দাম প্রতি ডজন সর্বোচ্চ ২৫ টাকা বেড়েছে। এখন ডজনপ্রতি ১৬০ টাকায় ডিম বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে ক্রেতাদের আস্থাহীনতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সপ্তাহের প্রথম দিনে রাজধানীর একাধিক বাজার এবং পাড়া-মহল্লার দোকানে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

মধুবাগ বাজারে দুপুর ১২টায় প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১৫০ টাকা। তবে বিকাল গড়ানোর সাথে সাথে দাম বেড়ে ১৬০ টাকা হয়ে যায়। একই চিত্র দেখা গেছে কুড়িল বাজারেও। সন্ধ্যা ৭টার পর প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা একদিন আগে ছিল ১৩৫ টাকা। মধুবাগ কাঁচাবাজারে ডিম কিনতে আসা মো. হাসিবুল বলেন, অন্য পণ্যের সঙ্গে তিনি ডিম কিনতে এসেছিলেন। যখন বিক্রেতার কাছে দাম জানতে চাইলেন, তখন বিক্রেতা ডজন ১৫০ টাকা চাইলেন। তিনি বললেন, "আমি তো দুই দিন আগেও ১৩৫ টাকায় কিনেছি। এমন কি হয়েছে যে বাজারে ডিমের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বেড়ে গেছে।" কিন্তু তিনি জানান, বাজারে ডিমের কোনো ঘাটতি নেই।

এছাড়া কুড়িল বাজারে ডিম কেনার জন্য আসা তানভির বলেন, "বাজারে এসে দেখি দাম আকাশছোঁয়া। বিক্রেতারা ১৭০ টাকা চেয়েছে। পরে ১৬০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে।" তিনি মন্তব্য করেন, "এইভাবে দাম বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক।" বাজারের বিক্রেতা সোহেল জানান, পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই তাকে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, "লাভ না হলে ব্যবসা করার কি দরকার।"

অন্যদিকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকা। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকায়। সব ধরনের মাছের দামও সপ্তাহের মধ্যে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরিবের মাছখ্যাত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৬০ টাকায়। হাফ কেজি ওজনের ইলিশের কেজি দাম রয়েছে ১৫০০-১৬০০ টাকা, তেলাপিয়ার কেজি ২৩০ টাকা, পাবদা ৩৮০, রুই ৩২০-৩৬০, কাতল ৪০০ এবং টেঙরা ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ এম


যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের আক্রমণাত্মক ধাপ শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যেই দেশটিতে জ্বালানির দাম বেড়ে চলেছে।

 বুধবার (৬ মে) অটো ট্রাভেল সংস্থা এএএ–এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম পৌঁছে গেছে ৪.৪৮৩ ডলারে (প্রায় ৩.৩১ পাউন্ড)।

 গাড়িনির্ভর পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে দাম আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন ৬.১৩১ ডলার এবং ওয়াশিংটনে ৫.৭০৫ ডলার। পশ্চিম উপকূলের এসব অঙ্গরাজ্যে বড় বড় বন্দর রয়েছে, যেখান থেকে পণ্য ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। ফলে যদি পরিবহণ ব্যয় বাড়ে, তাহলে এর প্রভাব ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে।

 অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে দাম তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। টেক্সাসে প্রতি গ্যালন ৩.৯৮১ ডলার এবং লুইজিয়ানায় ৩.৯২৩ ডলার। এসব এলাকায় তেল শোধনাগারগুলো বেশি থাকার কারণে দাম কম থাকে। এই একই প্রবণতা মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতেও দেখা যায়।

 এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে, যখন অনেকেই দীর্ঘ দিনের ও উষ্ণ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সড়ক ভ্রমণে বের হন। সাধারণত এই সময় জ্বালানির দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, যা যুদ্ধের কারণে আগেই চাপে থাকা মানুষের খরচ আর বাড়িয়ে দিতে পারে।

 ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানির দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে এতেও এটি ২০২২ সালের জুনে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ গড় মূল্য—প্রতি গ্যালন ৫.০১৬ ডলারের নিচেই রয়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%