প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে গ্রিস, ইউরোপের দেশ। একই সঙ্গে, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত শ্রম অভিবাসনবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়নের আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিসের সঙ্গে বৈঠকে এই আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।
৩০ জুলাইয়ের ওই বৈঠকে, অবৈধ অভিবাসন, মানব পাচার প্রতিরোধ, বৈধ শ্রম অভিবাসন সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায়, গত রবিবার বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা। বৈঠকে আলোচনার বিষয় ছিল বোয়েসেলের মাধ্যমে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রিসে পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।
রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বলেন, ‘গ্রিক মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, আমাদের সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হবে এবং বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী আনা হবে। তবে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীরা থাকার অনুমতি পাবেন না।’ তিনি এ ছাড়া উল্লেখ করেন যে, গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। গ্রিসে রেস্টুরেন্ট, কৃষি, পর্যটন এবং নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। তাদের মতে, বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো হলে, এতে দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা কমবে।
সম্প্রতি, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বোয়েসেলের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো গেলে, দালাল চক্রের উপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে ইউরোপের পথে যাত্রার প্রবণতাও কমতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সমঝোতার অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার কর্মী নেওয়ার কথা ছিল। একই চুক্তির আওতায় গ্রিসে অবস্থানরত প্রায় ১৫ হাজার অনিয়মিত বাংলাদেশিকে বৈধতার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছিল। কিন্তু, বাংলাদেশে গ্রিসের নিজস্ব দূতাবাস না থাকা এবং ভিসা প্রক্রিয়া দিল্লি নির্ভর হওয়ায়, চুক্তির বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। দিল্লিতে সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেটের কারণে ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন